

বান্দরবান অফিসঃ-পাহাড়কে পাহাড়ের মত করে থাকতে দিতে হবে।পাহাড়ের উপর অপরিকল্পিত বাড়ীঘর নির্মাণ ও পাহাড় কেটে ঝুঁকি তৈরি করছি আমরা নিজেরাই।বান্দরবানে বসবাসরত জনগোষ্টির সার্বিক নিরাপত্তা বিধান ও পাহাড় ধস সর্ম্পকে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আগাম সতর্কতায় বান্দরবানে এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।এসময় পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন,পাহাড় ও বন রক্ষার মাধ্যমে আমরা আমাদের জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করতে পারবো।বেশী লাভের আশায় পাহাড়কে আঘাত করে পাহাড়ের ভারসাম্য নষ্ট করলে পাহাড় ও তার সমীচিন জবাব দেবে আর এতে আমাদের সকলের জীবনে নেমে আসবে চরম দূর্ভোগ।বান্দরবানে বসবাসরত জনগোষ্টির সার্বিক নিরাপত্তা বিধান ও পাহাড় ধস সর্ম্পকে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আগাম সতর্কতায় বান্দরবানে এক কর্মশালা অনুষ্টিত হয়েছে।
সোমবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বান্দরবান জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের আয়োজনে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে এই কর্মশালা অনুষ্টিত হয়।এসময় দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রাশিদা বেগমের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।এসময় অন্যান্যদের মধ্যে জেলা প্রশাসক মোঃআসলাম হোসেন,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আলী হোসেন,বিজিবির বান্দরবান সেক্টরের কমান্ডার কর্ণেল মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন,সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ,সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার,সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমা বিনতে আমীন,জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আলীনুর খান,পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য কাঞ্চনজয় তঞ্চঙ্গ্যা,সদস্য তিং তিং ম্যা,স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর (এলজিইডি) বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তালেব চৌধুরী,পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত,কারিতাসের প্রোগ্রাম অফিসার রুপনা দাশ,বান্দরবান পৌরসভার সচিব মো:তৌহিদুল ইসলাম,জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা শিলাদিত্য মুৎসুদ্দি,জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুম্মিতা খীসাসহ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা,সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উর্ধতন কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।কর্মশালায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম হোসেন জানান,প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বান্দরবানে পাহাড় ধসে বহু লোক আহত ও অনেকে মৃত্যুবরণ করে।সর্বশেষ ২০১৭ সালে পাহাড় ধসে বান্দরবানে ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটে।
এসময় সভায় বক্তারা বলেন,অপিরকল্পিত পাহাড় কর্তন,ঝুকিঁপূর্ণ পাহাড়ের চুড়ায় অবস্থান ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস সর্ম্পকে ধারণা না থাকায় প্রতিবারই পাহাড় ধসে মৃত্যু ঘটছে পার্বত্য এলাকার বসবাসকারী জনসাধারনের।কর্মশালায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম হোসেন বলেন,শীঘ্রই বান্দরবানে সাতটি উপজেলায় সাতটি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে এবং পাহাড়ের সঠিক সংরক্ষণ ও পাহাড় ধস রোধে প্রশাসনসহ সবাইকে নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে।এদিকে কর্মশালার আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।শোভাযাত্রাটি বান্দরবানের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে এসে শেষ হয়।শোভাযাত্রার ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্টানের কর্মকর্তা কর্মচারী,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা অংশ নেয়।