

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-বান্দরবান সদর হাসপাতালের ডাক্তারদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে আরো কঠোর হবার নির্দেশ দিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এম.পি। কর্তব্যরত কনসালটেন্টদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বান্দরবানে সপ্তাহে ৬ দিন ডিউটি করার জন্যে সরকার তাঁদেরকে বেতন দেয়।অথচ তাঁরা নিজেরাই ভাগাভাগি করে সপ্তাহে ২ দিন ডিউটি নির্ধারণ করে নিয়েছেন।এটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ।প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যদি আমাদের বান্দরবানবাসীকে পছন্দ না হয়,তাহলে এখান থেকে বদলী হয়ে চলে যান।যদি থাকেন,তাহলে দয়া করে মানুষকে প্রকৃত সেবা দিন।আপনারা ডিউটি ফাঁকি দেন, জনগণ গালি দেয় আমাদের। আপনাদের অবহেলায় বদনাম হয় সরকারের,বদনাম হয় জননেত্রী শেখ হাসিনার।’বান্দরবান সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সব ধরনের সমস্যা দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেলা পরিষদকে জানানোর নির্দেশ দেন।তিনি বলেন, ‘যেসব সমস্যা স্থানীয়ভাবে সমাধান করা সম্ভব এবং যেগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে সমাধান করতে হবে সব আলাদা আলাদা করে জানান।’ তিনি হাসপাতালের নষ্ট এ্যাম্বুলেন্স, পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতিসহ সব ধরনের সমস্যার তালিকা প্রণয়ন করে জেলা পরিষদ এবং প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেবার নির্দেশ দেন।শীঘ্রই আরো কমপক্ষে ৫ জন ডাক্তার নিয়োগের ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা হয়েছে বলেও সভায় জানান তিনি।কর্তব্যরত নার্সদের দুর্ব্যবহার,নিয়মিত জেনারেটর সচল না থাকা,নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আইপিএস স্থাপন,ইমার্জেন্সী বিভাগে সার্বক্ষণিক ডাক্তার উপস্থিত থাকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেবারও নির্দেশ দেন।
তাৎক্ষনিকভাবে যেসব নির্দেশ দিলেন প্রতিমন্ত্রী:-
১.হাসপাতালের পানি সমস্যা সমাধানে জনস্বাস্থ্য বিভাগকে একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের নির্দেশ দেন।
২.টয়লেটসহ হাসপাতালের সব স্থাপনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন।
৩.ইসিজি মেশিন কেনার জন্যে ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দিতে জেলা পরিষদকে নির্দেশ দেন।
৪.নষ্ট হয়ে থাকা এ্যাম্বুলেন্স মেরামতের জন্যে ৫২ হাজার টাকা বরাদ্দ দিতে জেলা পরিষদকে নির্দেশ দেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা,জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল আলম,ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা.অং সুই প্রু,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃমাকসুদ চৌধুরী,ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.শাহানা রহমানসহ স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তারা।উল্লেখ্য,বান্দরবান সদর হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে একটি ফ্যান ৪ দিন ধরে বন্ধ থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে গত ৭ আগষ্ট স্থানীয় এক সাংবাদিকের ফেসবুক পোস্টে ভুক্তভোগীদের ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষিতে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে জরুরি এই সভা আহবান করেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী।(((খোলা চোখ ব্লগ)))