

বান্দরবানের লামা উপজেলার দুর্গম এলাকায় পাহাড়িদের শতাধিক একর জুম ভূমিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) আদালতের নির্দেশের পর শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) রাত ৮টায় আসামিদের গ্রেফতার করে পুলিশ।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম চৌধুরী।গ্রেফতাররা হলেন— মো.দেলোয়ার হোসেন ও মো. আরিফ হোসেন।তারা দুজনই এজাহারভুক্ত আসামি।মামলার অন্য আসামিরা হলেন— লামা রাবার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. কামাল উদ্দিন,সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন,মো. জহিরুল হক, মো. নুরু, দুর্যোধন ত্রিপুরা ও হাঁজিরাম ত্রিপুরা।এর আগে বান্দরবানের লামা উপজেলায় শতাধিক একর জুম ভূমিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলার এজাহার নিতে লামা থানাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) লাংকম ম্রোর করা আবেদনের শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেন লামা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেলাল উদ্দিনের আদালত।লামা কোর্ট পুলিশের জিআরও বিশ্বজিত সিংহ জানান, ৫০৬ নম্বর স্মারক মূলে আদালতের দেওয়া নির্দেশ সংক্রান্ত সব নথি গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর লামা থানায় পৌঁছানো হয়।মামলার এজাহারে বলা হয়, লাংকমপাড়া,রেংয়েনপাড়া ও জয়চন্দ্র ত্রিপুরাপাড়ার ৩৯ পরিবার শত বছর ধরে বংশ পরম্পরায় বসবাস করে আসছে।গত মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে অবৈধ দখলের উদ্দেশ্যে পাড়াবাসীর প্রথাগত জুম ভূমির শতাধিক একর জমি আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এতে অংশ নেয় রাবার কোম্পানির মো.কামাল উদ্দিনসহ ১৫ থেকে ২০ জন লোক।এসময় মেনরাও,মেনপাও, মেনরুম ও লাংকম ম্রো বসতঘরসহ ঘরের সব কিছু আগুনে পুড়ে যায়।একইসঙ্গে শতাধিক ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলে অগ্নিসংযোগকারীরা।স্থানীয়রা জানান, অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর,ফলজ ও বনজ গাছ সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।এছাড়া নানা প্রজাতির পাখির ছানা ও ছোট বড় বিভিন্ন প্রজাতির অনেক বণ্যপ্রাণীরও মৃত্যু হয়েছে।২৬ এপ্রিল খবর পেয়ে দুপুর ২টার দিকে লামা উপজেলার সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছান।মামলার বাদী লাংকম ম্রো জানান, ঘটনার পরদিন বুধবার মামলা করতে গিয়েও মামলা নেয়নি লামা থানা পুলিশ। তাই পরদিন গত বৃহস্পতিবার লামা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করা হয়।এ ঘটনায় মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করেও মো.কামাল উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।