

আলীকদম সেনা জোনের (প্রত্যয়ী তেইশ) উদ্যোগে লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের দুর্গম নাইক্ষ্যংমুখ এলাকায় ‘নাইক্ষ্যংমুখ প্রত্যয়ী স্কুল’ ও ‘নাইক্ষ্যংমুখ জামে মসজিদ’ নির্মাণ করা হয়েছে।সোমবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল মো.মনজুরুল হাসান পিবিজিএম,পিএসসি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব উন্নয়ন কাজের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।পরে তিনি নাইক্ষ্যংমুখ এলাকার দুস্থ ১শত উপজাতি ও বাঙালি নারী পুরুষের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল),নাইক্ষ্যংমুখ প্রত্যয়ী স্কুলের শতাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে পোশাক (গরম কাপড়),স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী মাস্ক,হ্যান্ড স্যানিটাইজার,নাইক্ষ্যংমুখ বাজারস্থ ক্যাং-এ পানির ফিল্টার-খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।এসময় স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে দেয়া এক বক্তব্যে সম্মানিত জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল মো.মনজুরুল হাসান বলেন,শিক্ষা ছাড়া কোন কখনো কোনও জাতি অগ্রসর হতে পারেনা।দুর্গম এলাকার প্রতিটি শিশুকে বিদ্যালয়মূখী করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কাজ করছে।এরই অংশ হিসেবে নাইক্ষ্যংমুখ প্রত্যয়ী স্কুলটি নির্মাণ করা হলো।বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা আলীকদম সেনা জোন থেকে করা হবে।তিনি স্কুলটি সুন্দরভাবে পরিচালনার স্বার্থে স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করেন।এসময় তিনি আরো বলেন,পাহাড়ে সেনাবাহিনীর একটাই লক্ষ্য শান্তি সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা।পাহাড়ের শান্তি-শৃঙ্খলা যারা নষ্ট করবে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা।কোন ধরনের চাঁদাবাজি মেনে নেয়া হবেনা।কোন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের জায়গা পাহাড়ে হবেনা।জনগণের জান মালের নিরাপত্তা প্রদানে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।এটা নিয়ে কোনও আপোষ নাই।
উদ্বোধন ও উন্নয়ন সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে লেফটেন্যান্ট হাসান,সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার কামাল উদ্দিন ও ওয়ারেন্ট অফিসার জোন জেসিও ইকরাম প্রমূখ।এছাড়াও রুপসীপাড়া ইউনিয়নের ওয়ার্ড মেম্বার শাহ আলম,কাওই মুরুং,স্কুলের জমিদাতা কাইম্পা মুরুং,মাংপা মুরুং,নাইক্ষ্যংমুখ বাজার কমিটির সেক্রেটারী মো.সানু,মসজিদের জমিদাতা নবী হোসেন সহ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত,৫ থেকে ১০ বছর বয়সী দুই শতাধিক মুরুং,ত্রিপুরা,মার্মা ও বাঙ্গালী শিশু এবং ৩ জন শিক্ষক নিয়ে যাত্রা শুরু করে সেনাবাহিনী বাস্তবায়িত প্রাথমিক বিদ্যালয় নাইক্ষ্যংমুখ প্রত্যয়ী স্কুলটি।দুর্গম ও পশ্চাৎপদ এলাকার শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত এবং ঝরে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করার চমৎকার একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।সেনাবাহিনীর সার্বিক সহায়তায় স্কুলটি পরিচালিত হবে।স্কুলটি পরিচালনায় লামার গজালিয়া সাব জোন কমান্ডারকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।