

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-যৌথ প্রযোজনার নামে যৌথ প্রতারণা বন্ধের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে চলচ্চিত্রের ১৪টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত চলচ্চিত্র ঐক্যজোট।তারা আজ দুপুর ১২টায় এফডিসি থেকে আন্দোলন শুরু করেন।পরে এফডিসির মূল ফটকের সামনে মেইন রোডে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান নেন।সেখানে বক্তব্য দেন ঢাকাই ছবির ‘সুলতান’ খ্যাত চিত্রনায়ক বাপ্পী।তিনি বলেন, ‘কারো বিপক্ষে বা কোনো মহল-ব্যাক্তিকে প্রতিপক্ষ করে নয়,এই আন্দোলন দেশের সংস্কৃতি ও ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি রক্ষার আন্দোলন।যারা এই আন্দোলনের পক্ষে নন তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতিপক্ষ করে তুলবেন।তিনি আরও বলেন, ‘এত কষ্টের ইন্ডাস্ট্রি আমাদের।আমরা স্বপ্ন দেখি প্রতিদিন শুটিং হবে,আনন্দ উৎসবে ছবি মুক্তি পাবে।কিন্তু হচ্ছেটা কী?রোজার দিনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আন্দোলন করতে হচ্ছে।দিনকে দিন দেশের চলচ্চিত্র ধ্বংসের মুখে যাচ্ছে,ভিনদেশি ছবির বাজার বাড়ানো হচ্ছে।কৌশলে দেশীয় ছবিগুলোকে হল দেয়া হচ্ছে না।ভিনদেশ থেকে আসা মানহীন ছবিগুলো হল পেয়ে যাচ্ছে শতাধিক।এভাবে চললে যারা চলচ্চিত্রে কাজ করে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকি,তাদের আর কিছুই করার থাকবে না।বাপ্পী আরও বলেন, ‘অনেকেই বলছেন আমি জাজ থেকে এসেছি।এই প্রতিষ্ঠানটি আমার পিতার মতো।তবে আমি কেন জাজের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি?এটা খু্বই অবাক করা এবং বিব্রতকর প্রশ্ন আমার জন্য।বাবার বিরুদ্ধে সন্তান কখনো আন্দোলন করতে পারে না।আমিই বা কেন করবো।আমি এই আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্ম তার কারণ আমি আমার দেশ ও দেশের চলচ্চিত্রকে ভালোবাসি।এখানে আমি কাজ করে দুই বেলা ভাত খাই।জাজের হাত ধরেই আমি এখানে পা রেখেছি।জাজের কাছ থেকেই শিখেছি কাজের প্রতি,পেশার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।আজ যারা আমার পেটে লাথি মারতে চাইছে আমি তো তার হয়ে সাফাই গাইতে পারি না।তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে বেঁচে থাকার তাগিদেই আজ রাস্তায় নামতে হয়েছে।শুধু আমাকেই না,আরও অনেকেই আজ আন্দোলনে এসেছেন।এর কারণ সবাই দু মুঠো ভাত খেয়ে টিকে থাকতে চান।এখন দেশের চলচ্চিত্র কারা ধ্বংস করছেন সেটা তো দেখার বিষয় আমার নয়।আর এটা একতরফা জাজের বিষয়ও নয়।কেন আন্দোলনকে জাজের বিরুদ্ধে দেখা হচ্ছে?কেন আমার অংশ নেয়াটাকে ইস্যু করা হচ্ছে।আমি জাজ প্রধান আব্দুল আজিজকে বলতে চাই, ‘আপনি আমার বাবার মতো।এই বাবা দিবসে আমি আমার বাবার বিরুদ্ধে মিছিল করিনি, স্লোগান তুলিনি,তাকে খাটো করে কোনো কথাও বলিনি।আমাদের স্লোগান আর ধিক্কার ছিলো দেশের চলচ্চিত্র বিরোধীদের বিরুদ্ধে।আপনি পেশাদার মানুষ,আশা করি কানকথা,পাড়াকথায় সন্তানের ভুল না ধরে একজন পেশাজীবীর টিকে থাকার আবেগকে প্রাধান্য দেবেন।তিনি আরও বলেন, ‘দেখুন নায়ক ফারুক বা সোহেল রানা,কবরী, রোজিনা,অঞ্জনা,ববিতার মতো তারকাদের এখন আর অভিনয় না করলেও জীবন চলে।তবুও তারা এই আন্দোলনের সঙ্গে আছেন।কেন আছেন?অর্থকড়ির লোভে?মোটেও না।তারা এই শিল্পটাকে ভালোবাসে বলেই এখনো এই বয়সে আন্দোলনের কথা ভাবতে পারেন। আমাদের উৎসাহ দিতে পারেন।এটাকে নেতিবাচকভাকে ব্যাখ্যা করে এর মূল উদ্দেশ্যটা নষ্ট যারা করতে চাইছেন তারাও ইন্ডাস্ট্রির শত্রু।এই নায়ক যৌথ প্রযোজনার নামে যৌথ প্রতারণায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।