

বান্দরবানের লামায় বন্যা দুর্গতদের পাশে দাড়িয়েছে লামা-আলীকদম সেনা জোন।গত শনিবার (৬ জুলাই) থেকে টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের আশংকায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত লামার পৌরবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসে প্রশাসন।এছাড়াও লামা পৌর শহরের বেশকিছু এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণের ঘর বাড়ি তলিয়ে যায়।এসব কারণে জনসাধারণকে দুর্ভোগে পরতে হয়েছে,দেখা দিয়েছে মানবিক সংকট।এমন বাস্তবতায় আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে আশ্রয় নেয়া সাধারণ নাগরিকদের পাশে দাড়িয়েছে বান্দরবানের লামা-আলীকদম সেনা জোন।গতকাল বৃহস্পতিবার (১১জুলাই) দুপুর সাড়ে বারোটা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত লামার বেশকিছু আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানরত ২ শতাধিক পরিবারের মাঝে সেনা জোনের পক্ষ থেকে উন্নতমানের খাবার বিতরণ করা হয়।লামা-আলীকদম সেনা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর এ.এস.এম ফখরুল ইসলাম চৌধুরী (পিএসসি) সেনা জোনের পক্ষ থেকে উক্ত খাবার বিতরণ করেন।খাবার বিতরণকালে তিনি জানান,অতিবৃষ্টি ও বন্যায় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া নাগরিকদের রান্না করতে সমস্যা হচ্ছে।মানবিক দিক বিবেচনা করে লামা-আলীকদম সেনা জোনের পক্ষ থেকে আমরা রান্না করা খাবার বিতরণ করছি।এসময় তিনি আশ্রিত জনসাধারণের খোঁজ খবর নেন এবং লামা-আলীকদম সেনা জোনের পক্ষ থেকে এই ধরনের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন।এসময় তিনি আরও বলেন, লামা-আলীকদম সেনা জোন তথা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী চলমান বর্ষা,পাহাড়ি ঢল এবং যে কোন দুযোর্গপুর্ণ মুহুর্তে আর্তমানবতার সেবায় বেসামরিক প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক সহায়তায় সার্বক্ষণিক পাশে ছিলো এবং আগামীতেও থাকবে।শান্তি সম্প্রীতি এবং উন্নয়ন এই মুলমন্ত্রকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন যাবৎ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছে।পাহাড়বাসীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা,চিকিৎসাসহ সকল সম্প্রদায়ের মাঝে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।এসময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জোন জেসিও মোঃকামাল উদ্দিন ও জোনের বিভিন্ন স্থরের সেনা সদস্যরা।
এদিকে রান্না করা খাবার পেয়ে পানিবন্দী লামাবাসী সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন এবং ভবিষ্যতেও বিভিন্ন প্রয়োজনে তাঁরা সেনাবাহিনীর সহায়তা পাবেন বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন।পাশাপাশি তাঁরা আরও বলছেন,পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাধারণ জনসাধারনের জীবনযাত্রার সার্বিক মান উন্নয়নে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অনস্বীকার্য।