

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-আত্বহত্যা নয় বরং পরিকল্পিতভাবে শুশুরকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবী করেন ডা:ঈসমাইলের বড় জামাতা আলীকদম উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আনোয়ার জিহাদ।তিনি বলেন,ডাঃইসমাইলকে হত্যা করে ফ্যানের সাথে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।অন্যথায় রুমের চাবি কেন জব্দ তালিকায় নেই সেই প্রশ্ন তোলেন।সোমবার সকাল ১১টায় নাইক্ষ্যংছড়ি ঈদগাঁহ মাঠে অনুষ্ঠিত নামাজে জানাযায় আগত হাজারো মুসল্লির সামনে তিনি এ বক্তব্য রাখেন।তিনি আরো বলেন,ছাত্রলীগের রাজনীতি করার সময় আমি বেকার ছিলাম।কিন্তু আমার শশুর শুধু আওয়ামীলীগের রাজনীতি করি বলেই তার বড় কন্যাকে আমাকে বিয়ে দিয়েছিলেন।তিনি কতই না মুজিবীয় আদর্শের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন তা নাইক্ষ্যংছড়িবাসী আজ বুঝতে শুরু করেছে।নামাজে জানাযায় জেলা,উপজেলা,ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মী,সামজিক ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
ডা:ইসমাঈলের নামাজে জানাযায় বক্তব্য রাখেন আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য ও বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি শফিকুর রহমান,জেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক ও পৌর মেয়র ইসলাম বেবী,ডা:ঈসমাইলের বড় জামাতা আলীকদম উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আনোয়ার জিহাদ,নাইক্ষ্যংছড়ি আওয়ামীলীগ নেতা খাইরুল বশর,উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক ও বান্দরবান জেলা পরিষদ সদস্য ক্যাউচিং চাক,আওয়ামীলীগের যুগ্ন আহবায়ক আবু তাহের কোম্পানী,তসলিম ইকবাল চৌধুরী প্রমুখ।এছাড়া নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম কোম্পানী,সাধারন সম্পাদক উপজেলা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন,সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল কাশেম,ছাত্রদল সভাপতি আবু সুফিয়ান চৌধুরী,সাধারন সম্পাদক আবু কায়ছার সহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা জানাযায় অংশগ্রহন করেন।জেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক ও পৌর মেয়র ইসলাম বেবী বলেন,ডা:ঈসমাইল দলের জন্য নিবেদিত প্রান ছিলেন।দু:সময়ে দলকে আখড়ে ধরে তিনি কর্মীদের পাশে থেকেছেন।এভাবে তার বিদায় হবে ভাবতে অবাক লাগছে।সত্যি পুরো বান্দরবান আওয়ামীলীগ পরিবার একজন নীতিবান ব্যক্তিকে হারিয়েছে।তার শুন্যস্থান কোনদিন পূরন হবার নয় বলে দাবী করেন তিনি।তিনি আরো বলেন,ডা:ইসমাইলের পরিবারের পাশে থাকবে আওয়ামীলীগ।পাশাপাশি সব ধরনের সহযোগীতার আশ্বাষ প্রদান করেন।জানা যায়,মোঃইসমাঈল হোসেন মেহেদী (৪৮) প্রকাশ ডাক্তার ইসমাইল বাংলাদেশ রাইফেল্স এচাকুরীর সুবাদে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় আসেন।তার আদিনিবাস বরিশাল এবং পিতার নাম গোলাম রসুল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন।সাংসারিক জীবনে তার এক স্ত্রী,তিন কন্যা সন্তান রয়েছে।বড় মেয়ের বিয়ে হয় আলীকদম উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আনোয়ার জিহাদের সাথে।
এদিকে সোমবার সকাল ১১টায় উপজেলা সদরের ঈদগাহ ময়দানে নামাজে জানাজা শেষে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা:মো:ইসমাইল হোসেনের লাশ মহাজন এলাকায় সামাজিক গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।জানাজা মাঠে মেয়ে জামাই ও শ্যালকের বক্তব্যের সূত্র ধরে নতুন করে শুরু হয়েছে ধূম্রজাল তৈরী হয়েছে।আত্মহত্যা করার মত কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছেনা নিহতের পরিবার।পুরো এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বক্ষেত্রে বিশেষত রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।তারা তড়িগড়ি না করে ময়না তদন্তের সঠিক প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।নিহত ডাঃইসমাইল হোসেনের লাশের প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবী,এভাবে কেউ আত্মহত্যা করতে পারেনা,তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে,স্থানীয়দের দাবি সঠিক ভাবে লাশটি ময়নাতদন্ত করলে মৃত্যুর আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।প্রসঙ্গত গত ৩০এপিল কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেল থেকে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় ডা:ঈসমাইলের লাশ উদ্বার করে পুলিশ।