

নিউজ ডেস্কঃ-দিন দিন ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে দেশের রফতানি খাত। আমদানিমুখী দেশ থেকে রফতানিমুখী দেশে রূপান্তরিত হওয়ায় বিশ্ব বাণিজ্যে নজর কাড়ছে বাংলাদেশ। নির্বাচনকালীন মৌসুমে অনেকে ধারণা করেছিলেন যে অর্থনৈতিক মন্দার সম্মুখীন হবে দেশ। কিন্তু এই ধারণাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ও রফতানি খাত।
চলতি অর্থ বছরের (২০১৮-২০১৯) চার মাসে রফতানি আয় বেড়েছে বিগত বছরের থেকে ১৯ শতাংশ বেশি। বর্তমানে দেশে রফতানি খাত থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৩৬৫ কোটি ডলার। সর্বশেষ, অক্টোবর মাসে রফতানি আয় প্রায় ৩১ শতাংশ বেড়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রফতানি আয়ের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এই অর্থবছরে আয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৬৫ কোটি ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২.৫৭ ও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮.৬৫ শতাংশ বেশি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশের ৩ হাজার ৬৬৭ কোটি ডলার রফতানি আয় হয়েছিল। প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.৮১ শতাংশ।
এই রফতানি খাতের ভেতর এগিয়ে আছে পোশাক খাত। বিশেষ করে পোশাক খাতের রফতানি বৃদ্ধির জন্যই ত্বরান্বিত হয়েছে দেশের রফতানি প্রবৃদ্ধি। চলতি অর্থবছরের চার মাসে পোশাক খাতে মোট আয় হয়েছে ১ হাজার ১৩৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ওভেন পোশাক বা প্যান্ট-শার্ট রফতানি করে আয় হয়েছে ৫৪৬ কোটি ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। আর নিট বা গেঞ্জি জাতীয় পোশাক রফতানি করে আয় হয়েছে ৫৮৮ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি।
পোশাক খাতের রফতানি বৃদ্ধি পেলেও দেশ বর্তমানে শুধু পোশাক খাতের উপর নির্ভরশীল নয়। রফতানিকৃত পণ্যের তালিকায় যুক্ত হয়েছে অনেক পণ্য। ইতোমধ্যে ঔষধ রফতানি করে বিশ্বে অনন্য জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশে কৃষি পণ্য রফতানি করে আয় হয়েছে ৩৬ কোটি ৬৫ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮০ শতাংশ বেশি।
একটা সময় দেশে রফতানি খাত ছিল হুমকির সম্মুখীন। সেদিন এখন অতীত। বহির্বিশ্বে বর্তমানে ইতিবাচক মনোভাবের কারণে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানে ক্রয়াদেশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পণ্য আমদানি-রফতানির উপর দেশের রাজনৈতিক অবস্থা প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা রাখে। গত কয়েক বছর ধরে দেশের রাজনীতি স্থিতিশীল, তার জন্য যথা সময়ে ক্রয়াদেশ সম্পন্ন করে প্রশংসিত হয়েছে বাংলাদেশ এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে করেছে সমৃদ্ধ।