

সিএইচটি নিউজ ডেস্কঃ-পাহাড়ের সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠন প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ’র) দাবীকৃত চাঁদা প্রদানকালে হাতেনাতে বহুল বিতর্কিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জাকির এন্টারপ্রাইজ এর পাঁচ সহযোগি ঠিকাদারকে ৩৭ লাখ টাকাসহ আটক করেছে পুলিশ।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত ১১টার দিকে মাইসছড়ি বিজিতলা এলাকায় একটি মাইক্রোবাসে তল্লাসী চালিয়ে টাকাসহ তাদের আটক করে।আটককৃতদের মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) সকালে আদালতে প্রেরন করলে বিজ্ঞ আদালত জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। আটকৃকতরা হলেন-কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার মৃত মান্নান মিয়ার ছেলে মো:মাইন উদ্দিন (২৮), একই উপজেলার মহিউদ্দিনের ছেলে মো:শফিকুল ইসলাম (৩৫),চট্টগ্রাম জেলার ভূজপুর থানার মো: সাইফুল ইসলামের ছেলে মো:আলমগীর হোসেন (২৩),খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার ফাতেমানগরের মো:সাহাব মিয়ার ছেলে মো:জসিম উদ্দিন (৩০) ও মাটিরাঙা উপজেলার মো: নুরুল আমিনের ছেলে মো:আল আমিন (১৬)।পুলিশ ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সূত্র জানায়,খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের জাকির এন্টার প্রাইজের অধিনে খাগড়াছড়ি জেলায় ৩২টি পাকা ব্রীজের কাজ চলমান রয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে জাকির এন্টারপ্রাজের সত্ত্বাধিকারী জাকির হোসেনকে পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসীতগ্রুপ) ১ কোটি চল্লিশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছিল।এর আগেও সংগঠনটিকে দাবীকৃত চাঁদার কিছু টাকা পরিশোধ করেছে বলে নাম প্রকাশ না শর্তে সহযোগী এক ঠিকাদার জানান।সম্প্রতি চাঁদার টাকা পরিশোধ করতে ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপ চাপ প্রয়োগ করার কারনে সোমবার রাতে ৫ সহযোগী ঠিকাদারকে দিয়ে ৩৭ লক্ষ টাকা পাঠায়। গোপন সংবাদ পেয়ে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা বিজিতলা আর্মিক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় পাহারা চৌকি বসিয়ে তাদের আটক করে।এ বিষয়ে জাকির এন্টার প্রাইজের স্বত্তাধিকারী জাকির হোসেনের নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘‘ইউপিডিএফসহ পাহাড়ি আঞ্চলিক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবী করে আসছিল।কিছুদিন কাজও বন্ধ করে রাখা হয়।কিন্তু কোন আমি তাদের কোনো চাঁদা দিইনি,আমি তাদের দেব দিচ্ছি বলে আশ্বাস দিয়ে আসছিলাম’’।জব্দকৃত টাকাগুলো শ্রমিকদের জন্য নিয়ে যাওয়াকালে পুলিশ জব্দ করেছে দাবী করেন এই ঠিকাদার।থানার অফিসার ইনচার্জ শাহাদাৎ হোসেন টিটু আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,আটকৃকতরা স্বীকার করেছে জব্দকৃত টাকাগুলো পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ’র (প্রসীত গ্রুপ) দাবীকৃত চাঁদা দেয়ার জন্য নেয়া হচ্ছিল।আসামীদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা রুজু হয়েছে।এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির অধীনে বাঘাইছড়িতেও ব্রীজের কাজ চলছে বলে জানাগেছে।উক্ত ব্রীজ নির্মাণকাজে অত্যন্ত নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছিলো বেশ কয়েকবার।