স্নাতকোত্তরের সমান সম্মান পাচ্ছে দাওরায়ে হাদিস


প্রকাশের সময় :১৭ আগস্ট, ২০১৮ ৬:১৪ : অপরাহ্ণ 680 Views

বান্দরবান অফিসঃ-বাংলাদেশে প্রচলিত দু’ ধরনের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে কওমি মাদ্রাসা একটি। উনিশ শতকে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রতিষ্ঠিত দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসার মাধ্যমে বাংলাদেশেও কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন হয়। মাদ্রাসা শিক্ষা পদ্ধতির সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদীসকে মাস্টার্সের সমান মর্যাদা দেয়ার জন্য আইন অনুমোদন  দিয়েছে সরকারের মন্ত্রীসভা।  ‘কওমি মাদরাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান আইন, ২০১৮’ খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী আলেম ওলামাদের সাথে এক বৈঠকে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতির ঘোষণা দেন। ঘোষণার পর থেকে কাজ শুরু করে দেয় শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাগণ।

কার্যক্রম শেষে মাস্টার্সের অনুমোদন পেলো দাওরায়ে হাদীস। সারা দেশে বর্তমানে ছয়টি বোর্ড কওমি মাদ্রাসাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এদেরকে নিয়ে আলাদা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড গঠন করা হবে। নতুন এই মাদ্রসা শিক্ষা বোর্ডের আলাদা নামকরণও করা হয়েছে।  এই শিক্ষা বোর্ডের নাম দেয়া হয়েছে ‘আলহাইয়্যাতুল উলিয়ালিল জামিয়াতুল কওমিয়া বাংলাদেশ’। এই বোর্ডের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় স্থাপন করা হবে।

‘আলহাইয়্যাতুল উলিয়ালিল জামিয়াতুল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর চেয়ারম্যান শাহ্‌ আহমদ শফী। তিনি হেফাজতে ইসলামের আমির ও মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই যুগোপযোগী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)-এর ২০১৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৩ হাজার ৯০২টি কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪ লাখেরও বেশি। তবে বেসরকারি হিসেব মতে, সারা দেশে কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি। সেই তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরো  বেড়েছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়ার ফলে সরকারের এই সিদ্ধান্ত তাদের শিক্ষা পরবর্তী জীবনে ও পেশাগত জীবনে অনন্য ভূমিকা রাখবে। অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ সিদ্ধান্ত যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক বলে মন্তব্য করে আহমদ শফী বলেন, এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের কোরআনি শিক্ষা ও কওমি অঙ্গনের অসংখ্য ছাত্র/ছাত্রী উপকৃত হবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডকে উন্নত শিক্ষা প্রদান করার জন্য অনেক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন যাতে একজন শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতামূলক এই যুগে পিছিয়ে না পরে। দ্বীনের তালিম, দাওয়াত, শিক্ষা বিস্তার, জাতির মানবিক ও নৈতিক সেবার ক্ষেত্রে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য  দাওরায়ে হাদীসকে স্নাতকোত্তরের সম্মান দেয়ায় অনেক আনন্দিত মাদ্রাসার শিক্ষার্থী  ও শিক্ষকগণ। বর্তমান সরকার ইসলামী শিক্ষা ক্ষেত্রে এই উন্নতির ধারা অব্যাহত রাখবে এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।

ট্যাগ :

আরো সংবাদ

ফেইসবুকে আমরা



আর্কাইভ
April 2025
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
আলোচিত খবর

error: কি ব্যাপার মামা !!