

এটা সত্য বাংলাদেশে প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার ইতিহাস বেশ পুরোনো। এ প্রক্রিয়া এতটাই শৈল্পিক যে তা মানছে না শিক্ষার্থীর বয়স, শ্রেণি, পরীক্ষার ধরন, ঋতুর বৈচিত্র্য ইত্যাদি! আর এই ইতিহাস পরিবর্তনে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। প্রশ্নফাঁসকারীদের যে বিশাল ‘সিন্ডিকেট’ তার সাথে পাল্লা দিয়ে পারেনি সরকার, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বারবার প্রশাসনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েছে এই সিন্ডিকেটটি, ধরা ছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে তারা। তাই বলে বিষয়টা এমন নয় যে, একদমই ধরা যায়নি প্রশ্নফাঁসকারীদের। তবে সংখ্যাটা এতই নগণ্য যে প্রশ্নফাঁস বন্ধ করা সম্ভবপর হয়নি এতে।
১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় যাতে কোনোভাবেই প্রশ্ন ফাঁস কিংবা ভুয়া প্রশ্ন ছড়াতে না পারে সেজন্য সাইবার দুনিয়ায় নজরদারি শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া এই অপতৎপরতা বন্ধে আন্ডার কাভার অপারেশন চালাচ্ছে তারা। প্রশ্নফাঁস রোধে ইতোমধ্যে তারা গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করেছে। সেই সাথে চলছে সাইবার পেট্রোলিং। গতবছর প্রশ্নফাঁসবিরোধী অভিযানে সারাদেশে ১২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এবারো এ ধরণের সংশ্লিষ্টতায় গ্রেফতার করা হবে। তাই শত প্রলোভনের মধ্যেও অভিভাবক, ছাত্র ও শিক্ষকদের সযত্নে এ ধরনের অপকর্ম থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। কেউ যদি ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস করে সে ক্ষেত্রে তাকেও ধরা হবে। এটাও জঘন্য অপরাধ। এ ধরনের প্রতারণাকারী শিক্ষক-ছাত্র কিংবা দাগী অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। দু-একদিনের মধ্যেই আপনারা রেজাল্ট দেখবেন।’ এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি পরীক্ষা হলে পরিদর্শন করবেন। অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলবেন। তাদের কাছে কোনো তথ্য থাকলে সেগুলো নিয়ে কাজ করবে বলেও জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এবার দেশের নয় হাজার ৮১টি প্রতিষ্ঠানের ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৫০৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার আসনে বসছে। এর মধ্যে ছাত্র ছয় লাখ ৬৪ হাজার ৪৯৬ জন এবং ছাত্রী ছয় লাখ ৮৭ হাজার নয়জন। আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের আওতায় এইচএসসি পরীক্ষায় মোট অংশ নিচ্ছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৪৭ জন। এরমধ্যে ছাত্র পাঁচ লাখ ৭৩ হাজার ৮১২ জন এবং ছাত্রী পাঁচ লাখ ৬৪ হাজার ৯৩৫ জন। এই পরীক্ষায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় এক লাখ ২৪ হাজার ২৬৪ জন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন আলিম পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৮৮ হাজার ৪৫১ জন।
এবার দেশের বাইরের আটটি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী রয়েছেন ২৭৫ জন। এ ছাড়া শারীরিক প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি ২০ মিনিট সময় বরাদ্দ করা হয়েছে এবং অটিজমসহ বিশেষ বিবেচনার দাবি রাখে, এমন শিক্ষার্থীদের ৩০ মিনিট বাড়তি সময় দেওয়া যাবে।
এবারও পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।
লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ১১ মে। এরপর ১২ থেকে ২১ মের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।