

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-আর ক’দিন পরে আসছে মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব সাংগ্রাই।এরই মধ্যে পাহাড় জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ।“সাংগ্রাইমা ঞি ঞি ঞা ঞা,রিকজাই গে পা মে” এসো মিলি সাংগ্রাই এর মৈত্রী পানি বর্ষণের উৎসবে-ঐতিহ্যবাহী এ মারমা গানের সুর মূর্ছনায় এখন উদ্বেলিত পাহাড়ি জনপদ।বর্ষবরণকে ঘিরে আদিবাসী পল্লীগুলোতে শুরু হয়েছে উৎসবের ধুম।নতুন জামা-কাপড় কেনা,পিঠা তৈরি,ঘর সাজানো,বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় গুরুদের জন্যে খাবার নিয়ে যাওয়া সর্বোপরি মৈত্রী পানিবর্ষণের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস সব মিলিয়ে সবকটি সম্প্রদায়ের মানুষ এখন একাট্রা হয়েছে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে।পুরনো দিনের সমস্ত গ্লানি ধুয়ে মুছে নতুনের আয়োজনে এখন ব্যস্ত সবাই।এই উপলক্ষে পাহাড়ি পল্লিগুলোতে ব্যাপক আয়োজন করা হয়েছে।তবে পাহাড়ে মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উৎসবের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ থাকে রিলংপোয়েঃ।যা অন্য ভাষা-ভাষির লোকের কাছে মৈত্রী বর্ষণ,জলকেলি উৎসব বা ওয়াটার ফেস্টিবল বলে পরিচিত।এদিন সকল পাপাচার ও গ্লানি ধুয়ে-মুছে নিতে তরুণ-তরুণীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটানোর উৎসবে মেতে উঠে।পুরানো বছরের সব গ্লানি,দুঃখ ও বেদনা ধুয়ে মুছে নতুন বছর যাতে সুন্দর এবং স্বাচ্ছন্দময় হয় সেজন্যই এসব প্রয়াস।সেদিন পাহাড়ের প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় চলে জলকেলি উৎসব।কিশোর-কিশোরী,তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ এই খেলায় মেতে উঠেন।আদিবাসীদের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উৎসবের নাম যেমন ভিন্ন ভিন্ন রয়েছে,তেমনি সাংগ্রাই উৎসবের তিনটি দিনের নামও আলাদা।মারমারা প্রথম দিনকে সাংগ্রাই আকনিয়াহ,দ্বিতীয় দিনকে সাংগ্রাই আক্রাইনিহ ও শেষ দিনকে লাছাইংতার বলে।এই উৎসবকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলে মারমাদের প্রাচীন ও বিলুপ্তিপ্রায় বিভিন্ন খেলাধুলা।যার মধ্যে “ধ” খেলা অন্যতম।প্রতি বছর পাহাড়ে সাংগ্রাই উৎসবে নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোষাক পড়ে “ধ” খেলায় মেতে উঠে মারমা তরুণ-তরুণীরা।