

বর্ণাঢ্য আয়োজন এবং নানা আনুষ্ঠানিকতায় সংসদীয় ৩০০নং আসনে ৭ম বারের মত নির্বাচিত সাংসদ বীর বাহাদুর উশৈসিং কে বরণ করলো বান্দরবানবাসী।বৃহষ্পতিবার (১৮ জানুয়ারী) বিকেলে ৭ম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার পর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে সড়কপথে বান্দরবান ফিরলে বান্দরবানের সর্বস্তরের জনগন এর পক্ষ থেকে তাকে স্থানীয় রাজারমাঠে রাজকীয় নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া হয়।এর আগে চট্টগ্রাম- কক্সবাজার সড়কের কেরানীহাট রাস্তার মোড় থেকে কয়েকশ মোটরসাইকেল এবং শতাধিক গাড়িবহরসহ জেলা শহরে প্রবেশকালে পথে পথে হাজারো মানুষের ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহন করেন বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।এ সময় ২৩ কিলোমিটার সড়কের দুইপাশে দাড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ ফুল ছিটিয়ে এবং ফুলের তোড়া দিয়ে সাংসদ বীর বাহাদুর এমপি কে শুভেচ্ছা জানায়।বীর বাহাদুরের আগমন উপলক্ষে চট্টগ্রামের দোহাজারি থেকে বান্দরবানের ঐতিহাসিক রাজারমাঠ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে দুইশোর বেশি তোরণ তৈরি করা হয়।জেলার সাতটি উপজেলা,দুটি পৌরসভা এবং ৩৩টি ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার পাহাড়ি বাঙালি দলমত নির্বিশেষে বীরের নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দিতে ভিড় জমায়।রাজারমাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং বলেন,বান্দরবানবাসী আমাকে ৭ম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন।আমি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।এসময় তিনি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন,কোনো ধরনের প্রতিহিংসা নয়।আপনাদের ভালোবাসা নিয়ে ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে বান্দরবানবাসীর উন্নয়নে কাজ করতে চাই।প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বাস রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে পার্বত্যবাসীর কল্যাণে কাজ করব।
এসময় জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ক্যশৈহ্লা,জেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক লক্ষীপদ দাশসহ সুশীল সমাজ,সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি কে এক নজর দেখার জন্য হাজারো নারী পুরুষ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা রাজার মাঠে ছুটে আসেন।পরে স্থানীয় রাজার মাঠে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে চট্রগ্রামের জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী মুন দর্শক শ্রোতা জয় করে অনবদ্য সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
উল্লেখ্য,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী পাহাড়ের অপরাজিত বীর ‘বীর বাহাদুর উ শৈ সিং ১৯৯১, ১৯৯৬,২০০১,২০০৮,২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটানা নির্বাচিত হয়েছেন।৭ম বারের মতো নির্বাচিত বীর বাহাদুর উশৈসিং দীর্ঘ ৩০ বছর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ১৯৯৮ সালে উপমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রথমবার এবং ২০০৯ সালে প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় দ্বিতীয়বার পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান এবং ২০১৪ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সর্বশেষ ২০১৮ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।এসব পালনকালে বান্দরবানে অভূতপূর্ব উন্নয়নের সুফল ভোগ করছে জেলার চার লাখেরও বেশি জনসাধারন।