

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে এই বছর জুম চাষ বিপর্যয় এর কারনে খাদ্যের তীব্র সংকট দেখাদিয়েছে দুর্গম এলাকার জুমিয়া পরিবারগুলোতে।পাহাড়ের পাদদেশে জুম চাষ,বাঁশ ও বনজ সম্পদ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে এই দুর্গম গ্রামগুলোর বাসিন্দারা।কিন্তু এ বছর জুম চাষে বিপর্যয় হওয়ায় এবং প্রাকৃতিক সম্পদের উৎস হ্রাস পাওয়ায় প্রাক-বর্ষা মৌসুম থেকে ১৫-২০টি দুর্গম গ্রামে এই অভাব দেখা দিয়েছে।সাজেকের অধিকাংশ গ্রামে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। যার কারণে পায়ে হাঁটা পথে মাচালং বাজার থেকে কোনো পণ্য ক্রয় করে এ সব গ্রামে নেওয়া পর্যন্ত খরচ পড়ে ক্রয়মূল্যের তিনগুণ।যার কারণে সাজেকের অধিকাংশ গ্রামের মানুষ খাদ্য ক্রয় করতে পাচ্ছে না।
এতে করে দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য সংকট।সাজেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা ও ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শান্তি কুমার ত্রিপুরা জানান,জুমের ধানসহ অনান্য ফসলের ফলন কম হওয়ার কারণে প্রায় দু’মাস আগে থেকেই খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামে।জানাযায়,সাজেকের উদোলছড়ি,নতুন জৌপুই,পুরান জৌপুই,নিউথাংমাং, নিউলংকর,ব্যাটলিংপাড়া,শিয়ালদাহ,নিমুইপাড়া, হাগড়াকেজিং,দুলুছড়ি,দুলবন্যাসহ প্রায় ১৫-২০টি গ্রামের প্রায় সাড়ে চার শতাধিক পরিবার খাদ্যাভাবসহ আর্থিক অনটনে ভূগছে।তবে এ সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুগছে নারী ও শিশুরা।পরিস্থিতি সামাল দিতে আত্মমানবতার সেবায় সাজেক ইউনিয়নের সেইসব দূর্গম গ্রামগুলোতে বুধবার থেকে সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি’র) সহায়তায় ত্রাণের চাউল পাঠানো শুরু করেছে।বাঘাইহাট জোনের অধিনায়ক লে:কর্ণেল মুহাম্মদ ইসমাইল খাঁ জানান,সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও খাগড়াছড়ি রিজিয়নের উদ্যোগে বিমান বাহিনীর চারটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করে বিজিবি’র সহায়তায় সাজেকের দূর্গম গ্রামগুলোতে চাল পাঠানো হয়েছে।এছাড়াও বুধবার ৩ এপ্রিল সাজেক ইউনিয়নের কংলাক গ্রামে গিয়ে খাদ্যশস্য বিতরণ করেন, বাঘাইহাট জোন অধিনায়ক লে:কর্ণেল মুহাম্মদ ইসমাইল খাঁ।খাদ্য সংকট মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।সেনাবাহিনর এ উদ্যোগে স্বস্তি ফিরে এসেছে এলাকায়।
তবে সেনাবাহিনীর এমন মহতি উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে নাম প্রকাশ না করা শর্তে অত্র এলাকার অনেকে সাংবাদিকদের বলেন,জুমের ফলন কম,বনজসম্পদ কমে যাওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ের একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জুম চাষে বাধাঁসহ বিভিন্ন ভাবে চাঁদাবাজির কারণে সাজেকে খাদ্য সংকটের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন,জুম চাষ ও বনজসম্পদের উপর আয় নির্ভর এসব গ্রামের ভুক্তভোগীরা।বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারতের মিজোরাম রাজ্য সন্নিহিত প্রাকৃতিক অপরুপ রূপে রূপময় ও অপার সম্ভাবনার এই জনপথটি সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৩ হাজার ফুট উচু পাহাড়ের চুড়ায় অবস্থিত।এ পাহাড়ের চুড়া থেকে মিজোরামের লুসাই পাহাড়ের নয়নাভিারাম দৃশ্য রাস্তার দু’ধারে-চোখে পড়বে উপজাতীয়দের বিচিত্রময় জীবন ধারা আর বসত বাড়ি যা দেখে নয়ন জুরিয়ে যায়।