

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-আঞ্চলিক দলীয় ছাত্র সংগঠনেরকর্মীদের দ্বারা রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের নেতার উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাঙামাটিতে পুলিশ ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জনের মত আহত হয়েছে।দাবি জেলা ছাত্রলীগের।সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের গাড়িসহ বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুরের শিকার হয়েছে।তাৎক্ষণিকভাবে সংঘর্ষে আহতদের নাম বিস্তারিত জানা যায়নি।এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাঙামাটি শহরে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগ।পুলিশ,ছাত্রলীগ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,আঞ্চলিক দলীয় সন্ত্রাসীদের হাতে জেলা ছাত্রলীগ নেতা নির্মম হামলার শিকার হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে রাঙামাটি শহরে মিছিল বের করে।এসময় শহরের কয়েকটি স্থানে রাস্তায় অবস্থান করে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে দাবিতে শ্লোগান দিয়ে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা।এক পর্যায়ে পুলিশ ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।সোমবার রাতে শহরের কোর্ট বিল্ডিংস্থ হ্যাপীর মোড় এলাকায় সংঘর্ষের সময় পুলিশ শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেছে।এ ঘটনার খবর পেয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শহরের তবলছড়ি,রিজার্ভ বাজার, বনরূপা,ভেদভেদী এবং বনরূপা এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষাভ মিছিল নিয়ে শহরের কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় জড়ো হয়।পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক হ্যাপীর মোর এলাকায় অবস্থান নেয়।এসময় পুলিশ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজনকে বেত্রাঘাত করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে দাবি করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।এদিকে,হ্যাপীর মোড় এলাকায় রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম ও কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ সত্যজিৎ বড়ুয়ার নেতৃত্বে থাকা বিপুল সংখ্যক পুলিশের সাথে এবং ছাত্রলীগের সংঘর্ষ চলাকালে ইট পাটকেল নিক্ষেপের বিপরীতে পুলিশের পক্ষ থেকে টিয়ারসেল নিক্ষেপ, ফাঁকাগুলি বর্ষণসহ লাঠিচার্জ শুরু করে।এসময় পুরো কোর্ট বিল্ডিং এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের গাড়িসহ বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করা হয়।সংঘর্ষের সময় পুলিশ শতাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।এদিকে বনরূপায় সংঘর্ষের খবর পেয়ে গোটা শহরে ছাত্রলীগ কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যারিকেড দেয় এবং টায়ারে আগুন জালিয়ে বিক্ষোভ করে।এক পর্যায়ে মাঠে নামে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।পরে ঘটনাস্থলে জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ পৌঁছে ছাত্রলীগ কর্মীদের শান্ত করে।এ সময় বনরূপা চত্ত্বরে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ সভা করে ছাত্রলীগ। প্রতিবাদ সভা থেকে জেলা ছাত্রলী সভাপতি সুজন তাদের নেতার উপর হামলাকারীদের গ্রেফতারে ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাঙামাটি শহরের হরতালের ডাক দেয়।এদিকে সংঘর্ষের সময় স্থানীয় সংবাদকর্মী ইমন ও একুশে টিভির প্রতিনিধি সত্রং চাকমা হামলায় আহত হয়।আহত সত্রং চাকমা রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।এ ব্যাপারে পুুলিশের মন্তব্য জানতে চাইলে পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান বলেছেন, একজন কর্মীকে মারধরের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করলে সামান্য বিষয় নিয়ে পুলিশের সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।সামান্য কিছু সময় পরেই আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে পুলিশ।বর্তমানে শহরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় আছে।প্রসঙ্গত, শহরে মারামারি চলার এক পর্যায়ে রাত নয়টা দিকে বনরূপা ফরেস্ট কলোনী এলাকায় এক অগ্নিকান্ডে আটটি বসতবাড়ি পুড়ে যায়।আগুনের শিখা দেখে বিষয়টিকে সাম্প্রদায়িক হামলা বলে কেউ কেউ গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করলেও নেতৃবৃন্দের দৃঢ়তায় তা সফল হয়নি।উল্লেখ্য রাঙামাটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুপায়ন চাকমাকে সোমরার সন্ধ্যার সময় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সন্ত্রাসীরা বেদড়ক পিটুনি দিয়ে গুরত্বর আহত করেছে বলে অভিযোগ করেছে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগ।হামলায় সুপায়ন চাকমার মাথা ফাটানোসহ শরীরের ঘাড়েসহ বিভিন্ন স্থানে থেতলে দেওয়া হয়।গুরুত্বর আহতাবস্থায় তাকে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মাথায় আটটি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে জানানো হয়।চাকমা সম্প্রদায়ের হয়ে আওয়ামীলীগ করার অপরাধে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কর্মীদের হাতে মারধরের শিকার হয়েছে বলে দাবি করেছে ছাত্রলীগ।