

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্ক:-রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে দুইটি ট্রাকে আগুন দেবার ঘটনায় অভিযুক্ত মূল হোতা রমেল চাকমা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি। গত ৬ এপ্রিল থেকে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।খবরে প্রকাশ,গত ২৩ জানুয়ারি রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলায় চাঁদার দাবীতে মালভর্তি ট্রাকে আগুন লাগিয়ে ভস্মিভূত করে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা। এসময় পর্যটকবাহী কয়েকটি গাড়ি থামিয়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ও টাকা পয়সা ছিনতাই করে নেয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।ভোর ৫ টার দিকে উপজেলার ১৮ মাইল-কাঠালতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।২৩ জানুয়ারি সাপ্তাাহিক মহালছড়ি বাজার থাকায় বাজার ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম থেকে পাইকারী ক্রয় করে চারটি ট্রাকে করে বিভিন্ন মালামাল রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক হয়ে মহালছড়ি বাজারে আসছিল।এসময় ৪ টি পর্যটকবাহী বিভিন্ন ধরণের গাড়িও তাদের পেছনে অনুসরণ করে ্আসছিলো।গাড়িগুলো নানিয়ারচর উপজেলার ১৮ মাইল-কাঠালতলী এলাকায় পৌঁছালে ১৬ জন উপজাতীয় মুখোশধারী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গাড়িগুলোকে থামিয়ে কাদের গাড়ী জিজ্ঞাসাবাদ করে।গাড়ী চালকরা মহালছড়ি বাজারের মালামাল পরিবহনের গাড়ী জানালে তাদের কাছে চাঁদা দাবী করা হয়। ড্রাইভাররা চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় সাথে সাথে সন্ত্রাসীরা চট্টমেট্রো ট-১১০৭৪১ এবং চট্টমেট্রো ট-১১২০৬৬ নম্বরের দুইটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়।ট্রাকগুলোর সাথে থাকা ড্রাইভার,হেলপার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চট্টমেট্রো ট- ১১২০৬৬ নম্বরের ট্রাকের আগুন তাৎক্ষণিকভাবে নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হলেও চট্টমেট্রো ট-১১০৭৪১ ট্রাকে দাহ্য মালামাল থাকায় তা নেভাতে সক্ষম হয়নি।ফলে ট্রাকটি এবং তাতে বহন করা মালামাল সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়ে যায়।ট্রাকটিতে চাল,ডাল,আলু,কেরোসিন,কসমেটিকসসহ বাজারের বিভিন্ন ধরণের ২০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ছিল।ট্রাকে অবস্থানকারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন,তারা সন্ত্রাসীদের পায়ে পড়ে ট্রাকে আগুন না লাগাতে অনুনয়বিনয় করেছিল।কিন্তু তাতে সন্ত্রাসীদের মন গলেনি। উল্টো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ট্রাক চালকদের মারধোর করে সন্ত্রাসীরা।এতে মহালছড়ি বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রকাশ আচর্য,কামাল হোসেন,মুন্সী মিয়াসহ কয়েকজন আহত হয়েছে।এদের মধ্যে সন্ত্রাসীদের দায়ের কোপে আহত মুন্সী মিয়াকে মহালছড়ি উপজেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে বলেও জানা গেছে।এ ঘটনার দায়ে গত ৫ এপ্রিল নানিয়ারচর বাজার থেকে রমেল চাকমা নামে এক যুবককে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনী। নিরাপত্তা বাহিনী সূত্র জানায়,রমেল চাকমায় নানিয়ারচর দুটি ট্রাকে আগুন দেবার মামলার প্রধান অভিযুক্ত। তদন্তের মাধ্যমে স্থানীয়দের থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে তাকে আটক করা হয়।আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রমেল নিজেকে ট্রাকে অগ্নি সংযোগের সাথে জড়িত বলে স্বীকার করে বলে নিরাপত্তা বাহিনী জানায়।এদিকে আটকের পর স্থানীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পর রমেল চাকমা বুকে ব্যথা অনুভবের কথা জানালে পুলিশ তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।ময়না তদন্ত না হওয়ায় রমেল চাকমার লাশ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। কারণ ময়না তদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত রমেল চাকমার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে না।