

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-রাঙামাটিতে ই-জিপি টেন্ডারে আহবান করা ৩৩ লাখ টাকার কাজ ভাগাভাগি করে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের রাঙামাটি বিভাগ এ টেন্ডার আহবান করে। তবে যাচাই বাছাই শেষ করা হলেও এখনও কার্যাদেশ দেয়া হয়নি।সংশ্লিষ্ট বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজসে ক্ষমতাসীন দলের একটি ঠিকাদার সিন্ডিকেট এসব কাজ ভাগিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়,জাতীয় স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে জেলার ৮ উপজেলায় কমিউনিটি টয়লেট নির্মাণের জন্য ৩৩ লাখ টাকার টেন্ডার আহবান করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।টেন্ডার (নম্বর- ৪৬.২০৩.৮৪.০০.০৬১-১৭.৩৯৮(১৭-৩৬১) ই-জিপি পদ্ধতিতে আহবান করা হয় ২ অক্টোবর। দরপত্র জমা ও খোলার তারিখ ছিল ২২ অক্টোবর।একাধিক সূত্র জানায়,ই-জিপি পদ্ধতিতে টেন্ডার আহবান করা হলেও ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সাধারণ ঠিকাদাররা দরপত্র ক্রয় ও জমা দিতে পারেননি।ক্ষমতাসীন দলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা ঠিকাদারদের একটি সিন্ডিকেট রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে নিজেরা অন্য জনের নামে দরপত্র কিনে সেগুলো দাখিল করেছেন।তা ছাড়া আয়কর ফাঁকি দেয়ার উদ্দেশ্যে দরপত্র দাখিল করা হয়েছে উপজাতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে।প্রচলিত বিধি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামে ঠিকাদারিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উপজাতীয়রা আয়করমুক্ত।
তথ্য মতে,সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে থাকা মো.সেলিম,মো. রুবেল,লিয়াকত ও সুমন ত্রিপুরা জেলা যুবলীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানা যায়।দরপত্র জমা দেয়া হয়েছে-ইউটিমং এন্টারপ্রাইজ,হেনা এন্টারপ্রাইজ,রতœ তঞ্চঙ্গ্যা,সিবলী এন্টারপ্রাইজ এবং বেজিও এন্টারপ্রাইজ নামে।কাজগুলো এরই মধ্যে যাচাই বাছাই শেষ করে চূড়ান্ত প্রক্রিয়াধীন বলে জানা গেছে।সূত্রে তথ্যমতে,এগুলোর মধ্যে ইউটিমং এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেয়ার চড়ান্ত করা হচ্ছে।আর এসব কাজে বিভাগীয় কতিপয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজস রয়েছে বলে জানান,নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাধারণ ঠিকাদার অনেকে।এ ছাড়া জেলার ১০টি উপজেলায় পানি সরববাহের জন্য ডিপ টিউবওয়েল, পানি সাপ্লাইসহ বিভিন্ন কাজের জন্য ৪২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে-যার মধ্যে এরই মধ্যে ১০ কোটি টাকার টেন্ডার এর কাজ এর কার্যাদেশ এর মধ্যে দেয়া হয়েছে।বঞ্চিত নেতা কর্মীদের দাবি আওয়ামীলীগ দু’দফা ক্ষমতায় থাকার সুবাদে একটি ঠিকাদারি সিন্ডিকেট চক্র দলের নাম ভাঙ্গিয়ে পুরো জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের কাজের ভাগাভাগির দায়িত্ব নিয়ে নেয়,গত ৯ বছরে গোপন টেন্ডারে অখ্যাত পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে কোটি কোটি টাকার কাজ এরা ভাগ করে নেয়।এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন,আগে কী হয়েছে,না হয়েছে তা জানা নেই।আমি দায়িত্ব নেয়ার পর সবগুলো কাজে স্বচ্ছতা রয়েছে।বর্তমানে ই-জিপি পদ্ধতিতে টেন্ডার আহবান করা হয়।এতে যে কেউ ঠিকাদার টেন্ডারে অংশ নিতে পারেন। দরপত্রের কাজ সব কিছুতে বিধি অনুযায়ী বৈধভাবে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে।টেন্ডার ভাগাভাগি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজসের অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন,কারও বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাই সাপেক্ষে তা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।ফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার সেলিম বলেন, এসব অভিযোগ ভুয়া ও বানোয়াট।কোনো কাজ ভাগাভাগি করে নেয়া হয়নি।তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন,সব ই জিপিতে হয় সিন্ডিকেট নাই এসবতো সাংবাদিকদের বানানো।