

সিএইচটি নিউজ ডেস্কঃ-কে বলেছে “উজ্জ্বল নক্ষত্র” বদরুদ্দোজা চৌধুরী “বিএনপির অভিভাবক”? আমাদের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর কাজ হাতে নিয়েছেন কে? বি চৌধুরী আপনার অভিভাবক হতে পারে, আমাদের নয়! আমাদের অভিভাবক নাজিমুদ্দিন রোডের নির্জন কারাগারে ৩৯:৫০ টাকার ছোলা মুড়ি খাচ্ছেন আর বিএনপির প্রাণ ভোমরা তারেক রহমান। এ যেন, ‘যেখানে খেলাম সেখানেই হাগু করে দিয়ে আসার ঘটনা’ , আমাদের খেয়ে আমাদেরকে বলে গেলো ‘ওয়াদা বরখেলাপকারী’? বক্তৃতায় তিনি একবারও বেগম জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গ আনেন নি। তারেক জিয়া সম্পর্কেও কোনো কথা বলেননি।
বি চৌধুরী, ৮১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নির্মম ভাবে হত্যার সময় পাশের রুমে থেকেও বেঁচে গিয়েছিলেন তৃতীয় কোন শক্তির সহায়তায়।আজ ১৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন কারাগারে বন্ধী তখন সেই বি চৌধুরীই বিএনপি’র ইফতারের মঞ্চে উঠে আবারো তৃতীয় শক্তিকেই খুঁজছেন?
৮১ উল্টিয়ে ১৮ হয়েছে কিন্তু বি চৌধুরী একই রয়ে গেছে—চির বেঈমানউপরে জাহিদ এফ সরদার সাদী’র অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজে দেয়া স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবাহু তুলে ধরা হলো।উল্লেখ্য যে, লেডিস ক্লাবে শনিবারের ইফতার পার্টি নিয়ে তোলপাড় চলছে বিএনপিতে। কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি না করায় বি. চৌধুরীর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নেতারা।
রাজনীতিবিদদের স্মরণে বিএনপি এক ইফতার পার্টির আয়োজন করে। ইফতার পার্টিতে অধ্যাপক বি. চৌধুরী, আ. স. ম. আবদুর রব, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্নসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মাত্র দুজন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিকল্পধারার চেয়ারম্যান অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী। আর অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব তাঁকে ‘সকলের অভিভাবক এবং উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে অভিহিত করেন।
বক্তব্য দিতে এসেই অধ্যাপক বি. চৌধুরী বিএনপির নাম উচ্চারণ না করেই, বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘ওয়াদা বরখেলাপকারীকে আল্লাহ পছন্দ করে না। যারা মুখে এক আর কাজে আরেক তাঁদের আল্লাহ পছন্দ করে না।’ বি চৌধুরী বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে হতাশা ব্যক্ত করে বলেন দেশ রক্ষায় নতুন শক্তির (তৃতীয় শক্তি) প্রয়োজন। বক্তৃতায় তিনি একবারও বেগম জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গ আনেন নি। তারেক জিয়া সম্পর্কেও কোনো কথা বলেননি। ইফতার অনুষ্ঠানেই তাঁর বক্তব্য নিয়ে অসন্তোষ শুরু হয়। ইফতারের পর কয়েকজন নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রীতিমতো ঘেরাও করেন।
অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দলটির নেতা। তিনি বিএনপির প্রথম মহাসচিব। কিন্তু বিএনপিতে তিনি দুই কারণে বিতর্কিত। ১) জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজেই ছিলেন। জিয়াকে উশৃঙ্খল সেনা সদস্যরা হত্যা করলেও অক্ষত থাকেন অধ্যাপক বি চৌধুরী। ৩০ মে ১৯৮১ তে বি চৌধুরীর ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। ২) রাষ্ট্রপতির হয়ে অধ্যাপক চৌধুরী জিয়ার কবরে যাননি। এজন্য তাঁকে যখন অভিসংশন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএনপি, তখন তিনি পদত্যাগ করেন।
বিএনপিতে তারেক পন্থীরা অধ্যাপক চৌধুরীকে পছন্দ করেন না। অধ্যাপক চৌধুরীও এখন সুযোগ পেলেই বিএনপি এবং তারেক জিয়া সমালোচনা করেন।বিএনপির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেছেন,‘ সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে আমরা বি চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ছিলাম। কিন্তু মহাসচিব অতি উৎসাহী হয়ে তাঁকে বক্তব্য দিতে বলেছেন। এটা উচিৎ হয়নি।’ড. খন্দকার মোশররফ হোসেনও বলেছেন, ‘তার ( অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী) বক্তব্য গ্রহণ যোগ্য নয়। এটা তার নিজস্ব মত।
কিন্তু এই ক্ষোভ শুধু দেশে থাকলে কথা ছিল না। ইফতার পার্টির বিস্তারিত চলে গেছে লন্ডন, আমেরিকাসহ বহিবিশ্বে, আর চলছে তোলপাড়।
****প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।সিএইচটি টাইমস-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে।তাই মুক্তমত বিভাগে প্রকাশিত লেখার জন্য সিএইচটি টাইমস.কম কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না****।