

বিনোদন ডেস্কঃ-গত এক যুগ ধরে ঢাকাই ছবির অন্যতম প্রধান নায়ক শাকিব খান।জাতীয় চলচ্চিত্রসহ পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার।তবে বক্তব্যের মাধ্যমে সমালোচিতও হয়েছেন একাধিকবার।এবার এই একটি কারণে শীর্ষ এ নায়কের সদস্যপদ বাতিলের নীতিগত সিন্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি।মূলত চলচ্চিত্র ঐক্যজোটে শামিল ১৬টি সংগঠন তাকে বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়। আর শিল্পী সমিতিতে থাকায় সমিতি তার সদস্যপদ বাতিল করার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে।নীতিগত এ সিদ্ধান্তের কথাটি জানানো হয় শুক্রবার বেলা সাড়ে চারটা থেকে শুরু হওয়া জোটের এক জরুরি সভায়।বলা হয়,আগামী কার্যদিবসে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দফতরে এ সিদ্ধান্ত বিষয়ক চিঠি পৌঁছে দেওয়া হবে।রাজপথে নেমে তুমুল আন্দোলনের পরেও আলোচিত-সমালোচিত যৌথ প্রযোজনার দুই ছবি ‘নবাব’ ও ‘বস-টু’ আনকাট সেন্সর পায় ঈদের জন্য।আর এই বিষয়টিকে সামনে রেখেই ঐক্যজোটের নেতারা এই জরুরি সভা করেন বিএফডিসির পরিচালক সমিতির কার্যালয়ে।সভায় চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার,মহাসচিব বদিউল আলম খোকন,শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর,সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান,সিনিয়র অভিনেতা ফারুক, আলমগীর,রোজিনা,অঞ্জনা,রিয়াজ,পপি,প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু,ডিপজলসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।এই সভায় নায়ক ফারুককে নিয়ে কটু মন্তব্য করার অভিযোগে শাকিব খানের শাস্তি দাবি করেন প্রযোজক খসরু।
অন্যদিকে নায়ক আলমগীর বলেন, ‘শাকিব খানকে আর ক্ষমা নয়।এর আগে শাকিবের ঝামেলা মিটিয়ে দিয়ে ভুল করেছিলাম।এর জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।ফারুক ভাইকে নিয়ে যে কমেন্ট করেছে তা ক্ষমা করা হবে না।তাকে বয়কট নয়,তার শাস্তি চাই। সংগঠনগুলো তার ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত নিবে তাকে স্বাগত জানাবো।’যৌথ প্রযোজনার নানা অনিয়ম নিয়ে চলচ্চিত্র ঐক্যজোটের আন্দোলন শুরু হয় ১৮ জুন সকাল থেকে।এরই মধ্যে ১৮ জুন রাতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন হয় জাজ এর নেতৃত্বে।এ সম্মেলনে প্রযোজক, বুকিং অ্যাজেন্ট,হল মালিক ও শিল্পীরাও উপস্থিত ছিলেন।সম্মেলনে শাকিব ‘সাহেব’ শব্দটি উল্লেখ করে বেশ কিছু কথা বলেন।বলেন, ‘এত বছর তো কোনও সাহেব-ফাহেব দেখলাম না।একেকজন তো আপনাদের ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত।ভালো উদ্যোগের সময় ডাকা হলে, সাহেবদের তো পাওয়া যায়নি।’ শাকিবের সেই বক্তব্য নিয়ে কথা বলেছেন আলমগীরসহ একাধিক নেতারা।প্রসঙ্গত,যৌথ-প্রযোজনার ছবি ‘বস-টু’ ও ‘নবাব’ ছবি দুটির বিরুদ্ধে যৌথ প্রযোজনার নীতিমালা সঠিকভাবে মানা হয়নি বলে অভিযোগ তুলে আসছিল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ঐক্যজোটের নেতারা।আর এই ঐক্যজোটের নেতৃত্বে আছেন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি,শিল্পী সমিতিসহ বেশ ক’টি চলচ্চিত্র সংগঠনের নেতারা। ২১ জুন দুটি ছবিই বিনা কর্তনে ছাড়পত্র পায়।