

কোনও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে বান্দরবানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম সংগঠিত করার সুযোগ দেয়া হবে না বলে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করলেন বান্দরবানের পুলিশ সুপার জেরিন আখতার (বিপিএম)।তিনি বলেন,সন্ত্রাস-নৈরাজ্য-চাঁদাবাজির মতো সন্ত্রাসী কার্যক্রম কে সাধারণ মানুষ পছন্দ করেনা।সাধারণ মানুষের উপর অন্যায়,অত্যাচার আর নিপীড়ন করে কোনও সন্ত্রাসী দল পার্বত্য এলাকায় স্থায়ীভাবে টিকে থাকতে পারবে না।এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কঠোরভাবে দমন করা হবে।রবিবার (০৬ মার্চ) সকালে বান্দরবানের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে প্রেস বিফ্রিংকালে পুলিশ সুপার জেরিন আখতার এসব কথা বলেন।তিনি আরও বলেন,সন্ত্রাসীদের কয়েকটি দল পার্বত্য এলাকার বিভিন্নস্থানে ঘুরে ঘুরে চাঁদাবাজি,অপহরণ ও হত্যাকান্ডের মতো নৃশংস ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে।তবে তাদের এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সন্ত্রাসী জীবন ক্ষণস্থায়ী।সাধারণ জনগণকে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান টাকা আদায় করলেও সন্ত্রাসীদের সুনির্দিষ্ট কোনও ঘরবাড়ি কিংবা ঠিকানা নাই।এইসব সন্ত্রাসীরা কখনো পাহাড়ের টং ঘরে,কখনো রাস্তায় আর কখনো নদীপথে এলোমেলো একটা জীবনযাপন করে।শেষ সময়ে এসে আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে নিজেরাই নিজেদেরকে হত্যা করে নিজেদের জীবন শেষ করে দিচ্ছে।এসময় পুলিশ সুপার জেরিন আখতার আরো বলেন,পার্বত্য এলাকার ভূ-প্রকৃতি সমতল এলাকার চাইতে ভিন্ন।এখানকার সবস্থানে সড়ক নেই এবং অনেক স্থানে মোবাইল নেটওর্য়াক না থাকায় সব খবর তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়না।পুলিশও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছাতে পারে না।তবে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে শান্তি শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।যেকোন সময় কোনও একটি ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ করছে পুলিশ।বান্দরবানে সাম্প্রতিককালে যে খুনগুলো হচ্ছে এর সঙ্গে সাধারণ আইনশৃঙ্খলার বিষয়কে মেলানো যাবে না উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন,সমতলের সঙ্গে পাহাড়ের ঘটনা মেলানো যাবে না।পার্বত্য চট্টগ্রামে বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন সক্রিয় আছে।আধিপত্য বিস্তারসহ অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়ে তাদের নিজেদের মধ্যেই অনেকগুলো সমস্যা বিরাজ করছে।এসময় পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের যেকোন গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পুলিশকে দিয়ে সহায়তা করার অনুরোধ জানান।প্রেস বিফ্রিংকালে পুলিশ সুপার জেরিন আখতার (বিপিএম),অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অশোক কুমার পাল (পিপিএম-সেবা),অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল কুদ্দুছ ফরাজী (পিপিএম),সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.রফিকুল ইসলাম,প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিনারুল হকসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।