

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পূর্ণ মন্ত্রী হলেন ৬ষ্ঠ বারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশৈসিং।তাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে।আগামীকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষেদে শপথ নিবেন বীর বাহাদুর। এর আগে তিনি এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে।দীর্ঘদিন পর পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে একজন পূর্ণ মন্ত্রী দেয়া হলো এলাকার একজনকে। ১৯৯৮ সালে মন্ত্রণালয়টি গঠনের সময়ে খাগড়াছড়ির প্রয়াত সংসদ সদস্য কল্পরঞ্জন চাকমা পূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন।পরে রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দিপংকর তালুকদার দীর্ঘ পাঁচ বছর প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।রোববার সকালে গণভবন থেকে মন্ত্রিপরিষদের শপথ নিতে বীর বাহাদুরকে ফোন করা হয়।এর পর খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বীর বাহাদুরের নিজ এলাকা বান্দরবানে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। সর্বত্রই এখন উৎসবের অমেজ। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী সমর্থকরা এখন আনন্দের বন্যায় ভাসছেন। মিষ্টি বিতরণ হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। বিশেষ করে যারা নির্বাচনে বীর বাহাদুরের জয়লাভের জন্য বেশি খেটেছেন তাদের আনন্দের সীমা নেই।খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বান্দরবানের বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি গ্রামগুলোতেও উৎসবের বন্যা বইছে। নেতা-কর্মীরা বীর বাহাদুরকে শুভেচ্ছা জানাতে দলে দলে ছুটছেন ঢাকার মন্ত্রিপাড়ায়। সেখানে জেলার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন মন্ত্রী বীর বাহাদুরকে।এদিকে ক্ষুদ্ধ অপর পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটির নেতা-কর্মীরা। তারা অনেকটা নিশ্চিত ছিলেন সমতা আনতে এবার দিপংকর তালুকদারকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি না হওয়ায় হতাশ জেলার বাসিন্দারা।জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক লক্ষি পদ দাশ জানান,প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এটি পাহাড়ি জনপদের লোকজনদের জন্য সৌভাগ্যের।প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে সফল ছয় ছয় বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর বাহাদুরকে পূর্ণ মন্ত্রী করার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের দাবিও ছিল একটাই। অবশেষে আমাদের প্রত্যাশা সফল হয়েছে। এখন এগিয়ে যাওয়ার পালা।তিনি বলেন, মন্ত্রী বীর বাহাদুরের নেতৃত্বে পাহাড়ের আনাচে-কানাচে উন্নয়নের ধারা বয়ে যাবে বলে আশা আমাদের।১৯৯১ সালে বান্দরবান ৩০০নং আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এক সময়ের ফুটবল খেলোয়াড় বীর বাহাদুর উশৈসিং। পরে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। পর পর ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সর্বশেষ একাদশ সংসদ নির্বাচানে প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরীর সঙ্গে ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন বীর বাহাদুর।তবে একইসঙ্গে রাঙ্গামাটিতে সিনিয়র নেতা দিপংকর তালুকদার ও খাগড়াছড়িতে কুজেন্দ্র লাল জয়ী হওয়ায় এবার পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কার হাতে দেয়া হয় তা নিয়ে পাহাড়ের নেতাদের মধ্যে চলে স্নায়ুযুদ্ধ।শেষ পর্যন্ত মুকুট পরলেন বীর বাহাদুর উশৈসিং।