

তীব্র শীতে কাঁপছে সারাদেশ।পার্বত্য জেলা বান্দরবানেও শীতের দাপট বেড়েছে।তাপমাত্রা অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।বান্দরবানের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে আজ বুধবার সকালে ৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে তাপমাত্রা।কয়েক বছরের মধ্যে পার্বত্য এই জেলায় এটাই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।এমন কনকনে শীতে জনসাধারনের দুর্ভোগ মেটাতে শীতবস্ত্র নিয়ে মাঠে নেমেছে বান্দরবানের সদর উপজেলা প্রশাসন।সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবিবা মীরা এর নেতৃত্বে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরন কার্যক্রম চলছে।এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে হাবিবা মীরা জানান, সদর উপজেলা প্রশাসন তীব্র এই শীতে জনাসাধারনের পাশে থাকবে।ইতিমধ্যে সদর উপজেলা এর বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং জেলা শহরে তিন হাজারের বেশি কম্বল বিতরন করা হয়েছে।আমি নিজেও গত রোববার ও মঙ্গলবার গভীর রাতে দুই দফায় কম্বল নিয়ে বের হয়েছি এবং ভবঘুরে ও মানসিক ভারসাম্যহীনদেরও কম্বল তুলে দিয়েছি।
এছাড়াও জেলা শহরের এতিমখানা’র শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্বল বিতরন করেছি।সদর উপজেলায় প্রশাসনের শীতবস্ত্র বিতরন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।এসময় সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া নার্গিস সুলতানা,প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (সদর) মো.জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়,সুয়ালক ইউনিয়ন,কুহালং ইউনিয়ন,বান্দরবান পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড, ওয়াব্দা ব্রিজ,ট্রাফিক মোড়,উজানী পাড়া,হাসপাতাল রোড এবং বালাঘাটা বাজারে অসহায় ও ভাসমান শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।আরও বেশকিছু এলাকায় কম্বল বিতরনের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে বুধবার বান্দরবান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল জানান,বুধবার সকাল ৬টায় বান্দরবান দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।তিনি বলেন, “আমাদের যে কয়দিন ধারাবাহিক তাপমাত্রা রেকর্ড আছে তার মধ্যে জেলায় আজকেরটাই সর্বনিম্ন।তার আগে কখনও এর নীচে নামেনি।” ২০১৪ সাল থেকে বান্দরবান অফিস চালু হলেও আবহাওয়া মূল পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এমনটাই উল্লেখ করেন তিনি।
“তার আগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কতটা নিম্নমুখী হয়েছে আমাদের কাছে রেকর্ড নেই।হয়ত কোনো সময় আরও নিম্নমুখী তাপমাত্রা হয়ে থাকতে পারে।কিন্তু আবহাওয়ার মূল পর্যবেক্ষণ চালু হওয়ার পর আমাদের রেকর্ডের মধ্যে বান্দরবান জেলায় এটাই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।”