লামা-আলীকদমে পাচারের অপেক্ষায় মজুদ ৮ লক্ষাধিক ঘনফুট পাথর


প্রকাশের সময় :১ মে, ২০১৮ ৭:১১ : অপরাহ্ণ 1009 Views

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ-বান্দরবানের লামা-আলীকদম উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে রাতের আধাঁরে পাচারের জন্য মজুদ করা হয়েছে ৮ লক্ষাধিক ঘনফুট অবৈধ পাথর।পাহাড়-খাল-নদী-ছড়া খুঁড়ে উত্তোলনকৃত এই অবৈধ পাথর থেকে কোন রাজস্ব পায়নি সরকার।আসন্ন বর্ষা মৌসুম।তাই ইতিমধ্যে পাথর ব্যবসায়ীরা কোয়ারী ও দূর্গম জায়গা থেকে পাথর সমুহ আহরণ করে গাড়ি পয়েন্টে এনে রাখছে।অজ্ঞাত কারণে বিপুল পরিমাণের এই মজুদকৃত পাথর নিয়ে প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা।বান্দরবাপ জেলা প্রশাসন মো. আসলাম হোসেন জানিয়েছেন,চলতি বছরে লামা-আলীকদমে কোন পাথরের পারমিট দেয়া হয়নি। অবৈধ পাথর ব্যবসায়ী ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।সরজমিনে ঘুরে ও স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙ্গালীদের কাছ থেকে জানা যায়, উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১,২,৩,৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের বনপুর,ইয়াংছা,ছমুখাল,পাইকঝিরি, ওয়াক্রা পাড়া,খ্রিস্টান পাড়া,মরা ঝিরি,চচাই পাড়া, কেরানী ঝিরি,কইতরের ঝিরি,বুদুম ঝিরি,চিনির ঝিরি,গয়ালমারা,বালস্ট কারবারী পাড়া ঝিরি, জোয়াকি পাড়া,বাকঁখালী ঝিরি,হরিণ ঝিরি,রবাট কারবারী পাড়া ঝিরি,বালুর ঝিরি,আলিক্ষ্যং ঝিরি, কাঁঠালছড়া,বদুর ঝিরি,গজালিয়া ইউনিয়নের ব্রিকফিল্ড,মিনঝিরি,ফাইতং রাস্তার মাথা,আকিরাম পাড়া,নাজিরাম পাড়া,ফাইতং ইউনিয়নের মিজঝিরি অংশ,লম্বাশিয়া,মেহুন্ধা খাল,শিবাতলী পাড়া এবং সরই ইউনিয়নের লুলাইং,লেমুপালং এ কয়েক হাজার স্তুপে ৫ লক্ষাধিক অবৈধ পাথর জমা করা হয়েছে।যা হতে প্রতিরাতে চুরি করে পাচারও হচ্ছে বলে জানায় স্থানীয়রা।পাথর উত্তোলন,পাচার করতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা পানির উৎস নদী,খাল,ছড়া গুলো ধ্বংস করছে অপরদিকে ভারি ট্রাকে করে পরিবরণ করতে গিয়ে গ্রামীণ রাস্তাঘাট সমুহ ভেঙ্গে নষ্ট করছে।এতে করে অত্র অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রা দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে।অপরদিকে আলীকদম উপজেলার ২৮৭নং তৈন মৌজার ছোট ভরি,বড় ভরি,ঠান্ডা ঝিরি,মাংগু ঝিরির শাখা প্রশাখা, আলীকদম-থানচি সড়ক,চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের পাট্টাখাইয়া সড়কের পথে পথে পাথরের স্তুপ, চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ভরিখাল,কলারঝিরির শাখা প্রশাখা, রেপারপাড়া এলাকার ডপ্রু ঝিরি,চিনারি দোকান এলাকার ভরিমুখ,মমপাখই হেডম্যান পাড়া থেকে সরকারি অনুমতি ছাড়াই নির্বিচারে পাথর আহরণ ও পাচার করছে কয়েকটি সিন্ডিকেট।এইসব পয়েন্টে কমপক্ষে ৩ লক্ষাধিক ঘনফুট পাথর মজুদ করা হয়েছে।স্থানীয়রা জানায়,এই উত্তোলনকৃত অধিকাংশ পাথর বন বিভাগের রিজার্ভ এলাকা থেকে তোলা।এই পাথর সিন্ডিকেটের সাথে সরকারি কিছু কর্মচারী ও স্কুল শিক্ষক জড়িত রয়েছে।এছাড়া সরকারী একটি বিশেষ বাহিনীর বড় দুইটি উন্নয়ন কাজকে পুঁজি করে পাথর ব্যবসায়ীরা আলীকদমে অবৈধ পাথর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।এইসব অবৈধ পাথরের বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও আলীকদমের অতিরিক্ত দায়িত্বরত ইউএনও নুর-এ জান্নাত রুমি বলেন,এখনো পর্যন্ত আমরা কোন পারমিট দেইনি। মজুদকৃত পাথরের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এই বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মুকবুল হোসেন বলেন,বিষয়টি জানা ছিলনা।আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

ট্যাগ :

আরো সংবাদ

ফেইসবুকে আমরা



আর্কাইভ
April 2025
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
আলোচিত খবর

error: কি ব্যাপার মামা !!