

বান্দরবানে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে অনন্যা কল্যাণ সংগঠন (একেএস) বাস্তবায়িত শ্রেয়া প্রকল্পের আওতায় নারী ও কিশোরীদের ক্ষমতায়ন এবং যুব অগ্রগতির টেকসই উত্থান শীর্ষক ডায়ালগ মিডিয়া ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় কাফ অফ জয় রেস্টুরেন্টে বান্দরবান জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের নিয়ে এই মিডিয়া ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।অনন্যা কল্যাণ সংগঠন (একেএস) এর নির্বাহী পরিচালক ডনাই প্রু নেলি’র সভাপতিত্বে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ এবং অনন্যা কল্যাণ সংগঠন আয়োজিত “পরিবারে ও সমাজে পাহাড়ি নারীর প্রতি নির্যাতন নির্যাতন ও প্রথাগত আইন” বিষয়ক আলোচনা পত্র পাঠ করেন সংস্কৃতি কর্মী ও একেএস এর EC কমিটির মেম্বার হোসনে আর শিরিন।মুল প্রবন্ধে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) এর সহযোগিতায় প্রকল্পের লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয় বান্দরবান পার্বত্য জেলার যুবতী নারী ও কিশোরীদের উন্নত সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।বান্দরবান পার্বত্য জেলার প্রতিটি সামাজিক ইস্যুতে কন্ঠস্বর উত্থাপনের জন্য যুবতী নারী ও কিশোরীদের নেতৃত্বের দক্ষতা বৃদ্ধি,যুবতী নারীদের সেবাগুলি যেমন (স্বাস্থ্য,শিক্ষা, আইনী সহায়তা,তথ্য,জীবিকা,সুরক্ষাজাল,মৌলিক প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি) বিষয়ে জ্ঞান সরবরাহ, সিএইচটি নৃগোষ্ঠীর নারীদের বিবাহ রেজিস্ট্রেশন প্রচলন,প্রথাগত শাসন ব্যবস্থায় নারী কারবারি হেডম্যান বৃদ্ধিকরণে স্থানীয় নারী নেটওয়ার্ক সমূহকে সংগঠিত করাই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বলে জানান আয়োজকরা।আয়োজকরা জানান,এতে বান্দরবান সদর উপজেলা,বান্দরবান পৌরসভা,কুহালং ও সুয়ালক ইউনিয়নের ৪২টি গ্রামের ১২ থেকে ২২ বছর বয়সী কিশোরীরা উপকার ভোগ করবেন।অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু,বান্দরবান প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিনারুল হক,প্রেসক্লাব সদস্য কৌশিক দাশগুপ্ত।এছাড়াও এক্টিভিস্ট ফোরামের সদস্য ডা.মা সং সিং, এক্টিভিস্ট ফোরামের সদস্য মেনাই প্রু,এক্টিভিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মে সিং নু, ওএইচএলএফ এর প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর দ্বিধীতা চাকমা,প্রজেক্ট ট্রেনি অফিসার (শ্রেয়া প্রকল্প) ড মে প্রু হ্যাপী এসময় উপস্থিত ছিলেন।কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটর ইলিপ্রু মার্মা এর সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত মিডিয়া ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠানের মিডিয়া ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন একেএস নির্বাহী পরিচালক ডনাই প্রু নেলী।এসময় তিনি মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) এর সহযোগিতা ও গ্লোবাল আ্যফেয়ার্স কানাড়া অর্থায়িত এবং একেএস বাস্তবায়িত নানা উদ্যোগ,বাস্তবায়িত কর্মসূচি,প্রস্তাবিত কর্মসূচি,কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সবিস্তারে সাংবাদিকদের তুলে ধরেন।আলোচনা পত্রে আয়োজকরা নারীর প্রতি বৈষম্য ও নির্যাতন বন্ধ করতে আদিবাসী নারীর সমঅধিকার সংরক্ষনের লক্ষ্যে প্রথাগত আইন বিশ্লেষন করে যুগোপযোগী করা এবং তা লিপিবদ্ধ করা,নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক ও অমর্যাদাকর প্রথা ও রীতিনীতিগুলো বর্জন করা,সম্পত্তিতে আদিবাসী পাহাড়ী নারীর উত্তরাধিকার বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলার পদক্ষেপ গ্রহণ,আদিবাসী পাহাড়ী সমাজে বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের ব্যাবস্থা প্রবর্তন,আদিবাসী পুরুষের বহু বিবাহ বন্ধ করার জন্য প্রথাগত আইনে বহু বিবাহ নিষিদ্ধ করা,লৈঙ্গিক শ্রমবিভাজন কমিয়ে আনা,প্রথাগত প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতার ভিত্তিতে নারীকে নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া,প্রথাগত সামাজিক আদালতের রায় এর যথাযথ প্রক্রিয়ায় রেকর্ড সংরক্ষণ করা এবং রায় লেখা ও রেকর্ড সংরক্ষণের বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা,সামাজিক বিচারের শুনানিতে নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা,আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও সংগঠনের মধ্যে লিঙ্গ-সংবেদনশীল কর্মসূচি গ্রহণ,আদিবাসী নারীদের উপর সহিংসতা বন্ধের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ১২ টি সুপারিশমালা তুলে ধরেন।