

অনন্যা কল্যাণ সংগঠন (এ.কে.এস) এর আয়োজনে শ্রেয়া প্রকল্পের কিশোরীদের নিয়ে বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে জেলা শহরের রয়েল আবাসিক হোটেলের সম্মেলন কক্ষে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অনন্যা কল্যাণ সংগঠনের প্রধান নির্বাহী ডনাই প্রু নেলী।সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুদ্দিন মো.হাছান আলী,জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এপিপি এ্যাডভোকেট বাসিং থোয়াই মার্মা,জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অংচ মং মার্মা,নারী কাউন্সিলর এ মে চিং মার্মা,নারী কাউন্সিলর শাহানারা আক্তার শানু,নারী নেত্রী এ্যাড.সারা সুদীপা ইউনুস,WRN সা.সম্পাদক চৈতি ত্রিপুরা,একেএস কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শৈনাই চিং মারমা প্রমুখ।শ্রেয়া প্রকল্পের কর্মসূচি সমন্বয়কারী লাল পেককিম বম এর স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বার্ষিক সম্মেলনের আলোচনা সভা শুরু হয়।সভায় অনন্যা কল্যাণ সংগঠন (এ.কে.এস) এর নির্বাহী পরিচালক ডনাই প্রু নেলী সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন,কিশোরীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছে অনন্যা কল্যাণ সংগঠন (এ.কে.এস)।পাশাপাশি বান্দরবান জেলাজুড়ে নারী অধিকার এবং নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একেএস কাজ করে যাচ্ছে।সবাইকে নারীদের কল্যাণে কাজ করতে হবে।বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে আমাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করতে হবে।এতে মেধার উন্নয়নের সাথে-সাথে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।গ্লোবাল এ্যাফিয়ার্স কানাডার অর্থায়ন ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এর সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথিরা নারীর ক্ষমতায়ন,স্বাস্থ্য সুরক্ষা,জীবন দক্ষতা ও বাল্য বিবাহের কুফলসহ সমসাময়িক নানা বিষয়ে তাৎপর্যপূর্ন আলোচনা করেন।সাবেক টিভি সংবাদ পাঠিকা ড মে প্রু মার্মার সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে শ্রেয়া প্রকল্পের সি.এফ কুলসুমা আকতার,ইলি প্রু মারমা এবং ক্যতিং অং মারমাসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানের শুরুতেই দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেন উপস্থিত অতিথিরা।এছাড়াও প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত কিশোরীরা দেশাত্মবোধক গান,কবিতা আবৃত্তি,নৃত্য পরিবেশনসহ নানা সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নেয়।
প্রসঙ্গত,শ্রেয়া প্রকল্পের ৪০ টি দল ১২০০ কিশোরীর সমন্বয়ে দীর্ঘদিন ধরে নারীর অধিকার,নারীর ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্ব এবং জীবন দক্ষতা নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।এছাড়াও,আদিবাসী প্রথাগত বিবাহ রেজিস্ট্রেশন এবং ঝরে পড়া নারীদের অধিকার আদায়ে আদিবাসী নারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিকভাবে সোচ্চার হতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।