

বান্দরবান অফিসঃ-শুভ চাংক্রান উৎসব উদযাপন উপলক্ষে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্যতম ম্রো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প সামগ্রী তৈরী,ক্রীড়া ও লোকনৃত্য প্রতিযোগিতা,পিঠা উৎসব,লোক সংগীত ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।গতকাল বুধবার (১১ এপ্রিল) সকাল দশটায় বান্দরবান সদর উপজেলার শেষ সীমান্ত চিম্বুক ১৬ মাইল বাগান পাড়া এলাকায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনষ্টিটিউট,বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও স্থানীয় ম্রো নেতৃত্বে গঠিত চাংক্রান উৎসব উদযাপন কমিটির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে চাংক্রান উৎসব এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মোঃআসলাম হোসেন,পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকির হোসেন মজুমদার,বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ,পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য লক্ষীপদ দাশ,সদস্য থোয়াইহ্লা মং মারমা,সদস্য ফিলিপ ত্রিপুরা,সদস্য সিং ইয়ং ম্রো,তিং তিং ম্যা মারমা,পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক ডাঃঅংচালু ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ইনিস্টিটিউট-এর পরিচালক মংনুচিং মারমাসহ ম্রো সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দরা।
চাংক্রান উৎসবের শুরুতে স্থানীয় ম্রো জনগোষ্ঠীর তরুণ তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী বাহারি পোশাকে সেজেগুজে হাতে ফুলের তোড়া আর পাপড়ি ছিটিয়ে নেচে গেয়ে অতিথিদেরকে অনুষ্ঠানে বরণ করে নেন।বুধবার সকাল থেকেই দিনব্যাপী নেঁচে-গেয়ে ম্রো জনগোষ্ঠীর তরুণ তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী বাঁশীনৃত্য,এক ধরনের বাশঁ খেলা ও দড়ি টানা-টানি সহ বিভিন্ন ধরণের খেলাধুলার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বর্নাঢ্য এই উৎসব সারা চলতে থাকে।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্যতম ম্রো সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব চাংক্রান উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি উপস্থিত হওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে উদ্দেশ্য করে বলেন,বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ম্রো সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।ম্রো জনগোষ্ঠীর শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহন করায় এককালের পার্বত্য অঞ্চলে সবচেয়ে বেশী পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ম্রো সম্প্রদায় থেকে ডাক্তার,ইন্জিনিয়ার,আইনজীবী সহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে।পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের বৈসাবি উৎসব এখন আর শুধু পার্বত্য অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকেনা।সারা দেশের সকল সম্প্রদায়ের মানুষেরা একসাথে মিলিত হয়ে নেচে গেয়ে বৈসাবি পালন করে।
যেকারনে বৈসাবি উৎসব সকল সম্প্রদায়ের অপূর্ব এক ঐতিহাসিক মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে।তিনি আরও বলেন,পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয় অতীতের ন্যায় আগামীতেও ম্রো জনগোষ্ঠীর জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে সবরকমের সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী উৎসব আয়োজকদের এতো সুন্দর দৃষ্টিনন্দন আয়োজনের জন্য মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান।