

তিন পার্বত্য জেলায় শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার পাশাপাশি, বসবাসরত জনসাধারণের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন উন্নয়নমূখী কার্যক্রম গ্রহণ করে আসছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পাশাপাশি পার্বত্য জেলার মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদানে ভূমিকা পালন করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের আওতাধীন তিন পার্বত্য জেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১৭ হাজার ৯১০ জনকে শীতবস্ত্র, ১৫হাজার ৬৮৭ জনকে ত্রান সামগ্রী ও ৭ হাজার ২২৪ জনকে বিভিন্ন আর্থিক অনুদান প্রদান করেছে।
আইএসপিআর সূত্রে জানা যায়, সেনাবাহিনী কর্তৃক ৭০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও পুননির্মাণ, ১২৩টি ধর্মীয় উপসনালয় নির্মাণ ও পুননির্মাণ, ৪৮টি যাত্রী ছাউনী ও ব্রীজ নির্মাণও পুননির্মাণ এবং ২৭টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়।এছাড়াও, সেনাবাহিনী পার্বত্য জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা উপকরণ, ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুল ড্রেস ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করে। পার্বত্য অঞ্চলের অবহেলিত মানুষদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে সেনাবাহিনী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে কম্পিউটার ও সেলাই মেশিন বিতরণসহ উক্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণও প্রদান করে। দুর্গম পার্বত্য এলাকার জনগণের সুষ্ঠু বিনোদনের জন্য সেনাবাহিনী কর্তৃক বিগত বছরে ১২২টি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের পাশাপাশি উন্মুক্ত চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা গেছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য জেলায় বিগত ২০১৯ সালে ১৩টি বিনামূল্যে চক্ষু শিবির পরিচালনা করে। এ সকল চক্ষু শিবিরে দুর্গম পার্বত্য এলাকার সুবিধাবঞ্চিত বয়োবৃদ্ধ পাহাড়ি ও বাঙ্গালীর চোখের ছানি অপারেশনসহ বিভিন্ন ধরনের চক্ষু সেবা প্রদান করা হয়। এছাড়াও সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে গুইমারা, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান রিজিয়নে সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকে।
এই চিকিৎসা সেবার আওতায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিগত বছরে সর্বমোট ৯৯১৬৬ জনকে বিনামূল্যে নানাবিধ চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে আর্থ সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের চিকিৎসা সেবায় সেনাবাহিনীর এই সহায়তা চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।