

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-লংগদু উপজেলায় নিহত যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়ন হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও পাহাড়িদের বাড়ি ঘরে আগুন দেয়ার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত বাঙালীদের মুক্তির দাবিতে আগামী ১১জুন রোববার তিন পার্বত্য জেলায় অর্ধ দিবস হরতাল ডেকেছে পার্বত্য নাগরিক পরিষদ ও বাঙালী ছাত্র পরিষদ।পার্বত্য নাগরিক পরিষদের দপ্তর সম্পাদক খলিলুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,পার্বত্য নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তরে সোমবার সকালে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি ও পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জি:আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এক জরুরী সভা অনুষ্টিত হয়।সভায় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের বর্তমান কেন্দ্রীয় আহবায়ক মো:আবদুল হামিদ রানা,পার্বত্য নাগরিক পরিষদের যুগ্ন-সম্পাদক শেখ আহাম্মদ রাজু,পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মো:কামাল হোসেন ভূঁঞা,পার্বত্য নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা প্রভাষক মো:ফজলুল হক,পার্বত্য বাঙালি ছাত্রপরিষদের কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির সদস্য ইব্রাহিম মনির ও সারোয়ার জাহান খান,পার্বত্য বাঙালি ছাত্রপরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি সাহাদাৎ ফরাজি সাকিব প্রমূখ।
সভায় নুরুল ইসলাম নয়নের হত্যাকারীকে গ্রেফতার না করে উল্টো লংগদু উপজেলার নির্দোষ বাঙালিদের গণহারে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।সভায় বলা হয় যে,গত ১লা জুন বৃহস্পতিবার লংগদুর বাসিন্দা যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়ন (৪০) কে দিঘীনালার চার মাইল নামক স্থানে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা নৃশংসভাবে হত্যা করে।এখনো পর্যন্ত প্রশাসন তার হত্যাকারীকে গ্রেফতার না করে লংগদু থানার বাঙালিদের গণহারে গ্রেফতার করছে।সভায় লংগদুর গনগ্রেফতারের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয় এবং গ্রেফতারকৃত বাঙালিদের নি:শর্ত মুক্তির দাবী জানিয়ে কর্মসূচী ঘোষনা করা হয়।কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে,নয়ন হত্যার বিচারের দাবীতে কাল ৬ জুন মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ,৭ জুন বুধবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ,১০জুন চট্রগ্রাম মহানগরের প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ,১০ জুন তিন জেলায় বিক্ষোভ মিছিল এবং নয়নের হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেফতার ও লংগদু উপজেলার নিরীহ বাঙালিদের গণগ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং গ্রেফতারকৃতদের নি:শর্ত মুক্তির দাবীতে ১১ই জুন রোববার তিন পার্বত্য জেলায় অর্ধদিবস হরতাল এর কর্মসূচী ঘোষনা করা হয়।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলাহয় ২জুন বাঙালিরা যখন নুরুল ইসলাম নয়নের লাশের জানাজা ও বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ব্যস্ত ছিল,ঠিক তখনই জেএসএস কর্মীরা পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে উপজাতিদের বাড়ীতে আগুন ধড়িয়ে দিয়ে নয়ন হত্যার বিষয়টি ধামা চাপা দেয়ার চক্রান্ত করেছে।অন্যদিকে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মহাসচিব পরস্পরের প্রতি যে ভাবে দোষারোপ করে কাদাঁ ছুরা ছুড়ি করছে,তাতে পার্বত্যবাসী হতবাক ও মর্মাহত হয়েছে।নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন করেন “উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রামে আর কত নিরীহ বাঙালী খুন হলে তাদের প্রতি আপনারা সহানুভূতিশীল হবেন?আপনারা নিশ্চয়ই জানেন যে,উপজাতিদের এটা পুরাতন কৌশল,বাঙালীদের হত্যা করে,তারা নিজেরা নিজেদের ঘরে আগুন লাগিয়ে আন্তর্জাতিক ভাবে বাঙালীদের ও বাংলাদেশকে হেয় প্রতিপন্ন করতে এ কৌশল অবলম্বন করেন।নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে নয়ন এর হত্যাকারীকে গ্রেফতার ও বাঙালিদের গণগ্রেফতার বন্ধ এবং গ্রেফতারকৃতদের নি:শর্ত মুক্তি দিতে হবে।অন্যথায় পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ ও পার্বত্য নাগরিক পরিষদ আরো কঠিন কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারী উচ্ছারণ করেন।