

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-‘আমার ছেলে তারেককে ফিরিয়ে দিন,আমি আর সইতে পারছিনা।কোথায় আছে আমার নাড়ি ছেড়া ধন?বান্দরবান প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের সময় কথা বলতে গিয়ে সাংবাদিকদের সামনে কেঁদে উঠেন সাইফুল ইসলাম তারেকের মা শাহনাজ আক্তার।বান্দরবান সরকারি কলেজের এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মো.সাইফুল ইসলাম তারেক (১৭)।সে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার নাপিত পুকুরিয়া গ্রামের শিক্ষক মো.সেলিমের ছেলে।গত ১৪ জুন বিকেলে একদল সাদা পোশাকধারী লোক সাইফুল ইসলাম তারেককে গ্রামের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়।এখনো পর্যন্ত তারেকের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বুধবার বিকেলে বান্দরবান প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের ঘটনার কথা জানান তারেকের বাবা মো.সেলিম ও মা শাহনাজ আক্তার।মা শাহনাজ আক্তার জানান,বিকেল ৪টার দিকে দুটি গাড়িতে করে ৭/৮ জন সাদা পোশাকধারী লোক বাসায় এসে ছেলের খোজ করে।তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে বলে জানায়।তারা তারেককে ধরে নিয়ে যেতে চাইলে বাধা দেওয়ার সময় জানায়,আমরা প্রশাসনের লোক ও বাধা দিলে গুলি করে মেরে ফেলা হবে।এ সময় ভয় পেয়ে তারেকের পরিবারের সদস্যরা আর কথা বলেনি।তবে ঘটনার সময়ে সেখানে র্যাব-৭ এর দুটি গাড়ি ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।পরে রাঙ্গুনিয়া থানার ওসিকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনিও র্যাব ধরে নিয়ে যাওয়ার কথা পরিবারের সদস্যদের জানায়।তারেকের বাবা মো.সেলিম জানান,পরের দিন চট্টগ্রামে র্যাব কার্যালয়ে গিয়েও তারেকের কোনো খোজ পাওয়া যায়নি।কর্মকর্তারা তারেককে ধরে নিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। ছেলে তারেককে খুঁজতে খুঁজতে মা বাবা এখন ক্লান্ত ও নিঃস্ব হয়ে পরেছে।তারা জানায় “আমার ছেলে কি এমন দোষ করেছে যে তার খোঁজটুকুও আমরা পাচ্ছিনা।আর কোথাই গেলে আমার সন্তানকে পাব আমরা?আর পারছিনা আমাদের একটু দয়া করুন।সংবাদ সম্মেলনে মা বাবার এই আকুতি উপস্থিত সাংবাদিকরাও স্তব্ধ হয়ে পরেন।এ বিষয়ে চট্টগ্রাম র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতা উদ্দিন আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,রাঙ্গুনিয়া থেকে তারেক নামের কোনো ছেলেকে তারা ধরে আনেননি।তবে রাঙ্গুনিয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা ইয়াজ উদ্দিন জানান,কারা তারেককে ধরে নিয়ে গেছে তা এখনো জানা যায়নি।তবে সেদিন স্থানীয়রা র্যাবের গাড়ি ওই এলাকায় দেখেছে বলে জানিয়েছে।এ বিষয়ে র্যাবের সাথে যোগাযোগ করা হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।