বাংলাদেশ আজ বিশ্বে যে ‘মর্যাদার আসনে’ পৌঁছেছে, তা ধরে রেখে আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় সময় রবিবার বিকেলে লন্ডনে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে যে পরিকল্পনা তার সরকার নিয়েছে, তাতে বাংলাদেশ আর কখনও ‘পথ হারাবে না’।
পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে থাকবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী। খবর বিডিনিউজ ও বাংলা নিউজের।
লন্ডনের কুইন এলিজাবেথ সেন্টারে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার সফরকালীন আবাসস্থল হোটেল ক্ল্যারিজ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আজকে বিশ্বে একটা মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে এসেছে। এটা আমাদের ধরে রাখতে হবে। আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’ এক যুগের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিয়ে আসা আওয়ামী লীগ কিভাবে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজিয়েছে তা অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রেক্ষিত পরিকল্পনা করে তার ভিত্তিতে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ধরে দেশের উন্নয়ন এগিয়ে নেয়া হয়েছে। এখন ২০৪১ সাল পর্যন্ত প্রেক্ষিত পরিকল্পনা তৈরি করে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। কাজেই এটা ধরে এগোতে পারলে বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না। শতবছরের ‘ডেল্টা প্ল্যান’ এর কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটা ব-দ্বীপ। এই ব-দ্বীপের জনগণ, বংশপরম্পরায় যারা আসবে, আগামী প্রজন্ম যারা আসবে, তারা যেন একটা সুন্দর জীবন পায়। সেই পরিকল্পনার কাঠামো তৈরি করে দিয়ে যাচ্ছি। সেটাও আমরা করেছি এবং সেটা আমরা বাস্তবায়ন করছি। ডেল্টা প্ল্যানের আওতায় ৮০টি প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাজধানীর সঙ্গে সমগ্র বাংলাদেশের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক আমরা তৈরি করে দিচ্ছি। কাজেই বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে যে পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা আমরা পরিচালনা করছি, তার ফলে এই বাংলাদেশ আর কখনও পথ হারাবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে জাতির পিতা যে আদর্শ দিয়ে গেছেন, সেই আদর্শ নিয়ে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে তার অভীষ্ঠ লক্ষ্য অর্জনের জন্য। প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগের আহŸান জানিয়ে সরকারপ্রধান অনুষ্ঠানে বলেন, এক শ’টা অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি। অনেকদিন তো এদেশে ছিলেন। বাংলাদেশে আসেন, বিনিয়োগ করেন। ব্রিটেনে যারা রেস্তরাঁ ব্যবসা করেন, বাংলাদেশ থেকে তাদের বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য নিয়ে যেতে হয়। সে বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা কিন্তু সেখানে তরিতরকারি, শাকসবজি, মাছ-মাংস উৎপাদন করতে পারেন। সেগুলোর সঙ্গে আধুনিক পদ্ধতিতে ভ্যালু এ্যাড করতে পারেন এবং এটা নিয়ে আসতে পারেন- রেডি টু কুক অর রেডি টু ইট।
সেই কাজটি সহজ করতে সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নতুন বিমান কিনে দিয়েছি। আমরা আগামীতে কার্গো বিমানও কিনে দেব। কোন সবজিটা, কোন মাংসটা কত তাপমাত্রায় রাখলে তার খাদ্যগুণ নষ্ট হবে না- সেইভাবে চেম্বার করে দিয়ে সেইভাবে আমরা কার্গো ভিলেজ করে দেব। আপনার কোন জিনিস রফতানি করতে আর সমস্যা হবে না। প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলে যারা বিনিয়োগ করতে চান, বিশেষ সুবিধা পাবেন। বিশেষ করে আমাদের প্রবাসী যারা, তাদের জন্য আরও আলাদাভাবে বিশেষ সুবিধা আমরা দেব, যাতে সেখানে বিনিয়োগটা আরও ভালভাবে হয়। করোনা মহামারীর মধ্যে ভীত না হয়ে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে বিএনপির ‘অস্তিত্ব’ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে দলের নেতৃত্ব ‘সাজাপ্রাপ্ত আসামি, পলাতক’ সেই দলের ‘অস্তিত্ব’ থাকে কিভাবে? শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেই দলটির (বিএনপি) আজকে অবস্থা কী? আপনারা নিজেরা একটু বিবেচনা করে দেখুন। একটা রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে কে আছে? অস্ত্র স্মাগলিং কেসে সাজাপ্রাপ্ত, গ্রেনেড হামলা করে আইভি রহমানসহ ২২ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করে সেই হত্যার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি।’ ‘এতিমখানায় দেয়ার জন্য টাকা পেল খালেদা জিয়া সেই টাকা এতিমদের না দিয়ে ভোগ করতে যেয়ে আজকে সেও সাজাপ্রাপ্ত। আর তার ছেলে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাজাপ্রাপ্ত আসামি, পলাতক সে হলো একটা দলের নেতৃত্বে, তো সেই দলের ‘অস্তিত্ব’ থাকে কিভাবে। যে দলের নেতৃত্বই হচ্ছে সাজাপ্রাপ্ত আসামি তাও খুনের মামলা, অস্ত্র চোরাকারবারি মামলা থেকে শুরু করে দুর্নীতির মামলা।’ খালেদা জিয়ার সন্তানদের দুর্নীতির তথ্য জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ছেলে-পেলেদের দুর্নীতি এটা আমাদের না, এটা আমেরিকার এফবিআই খুঁজে বের করেছে। সেখান থেকে ধরা পড়েছে, সিঙ্গাপুরে ধরা পড়েছে। বাংলাদেশ থেকে পাচারকৃত কিছু টাকা আমরা ফেরত আনতেও সক্ষম হয়েছি। এটাই হলো বাস্তবতা।’ ‘ওদের মধ্যে দেশপ্রেম নেই। ক্ষমতাকে ভোগের বস্তু মনে করে, লুটপাটের ক্ষেত্র মনে করে।’ বেশ কয়েকটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত লন্ডনে পালিয়ে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ‘প্রবাসে বিলাসী’ জীবনযাপন করছেন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা নিজেরাই এখন দেখতে পারেন। এই প্রবাসে থেকেও কিভাবে তারা জীবন যাপন করে। তাদের সোর্স অব ইনকাম কী? ‘তারেক জিয়াকে জিজ্ঞেস করেন কিভাবে অর্থ পায়? কিভাবে চলে? জনগণের সম্পদ লুট করে তারা বিলাসিতা করে। আর আওয়ামী লীগ জনগণের পাশে থাকে, জনগণের কল্যাণ চিন্তা করে।’ ২০০১ সাল পরবর্তী সময়ে বিএনপি আমলের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ এলো খালেদা জিয়া ক্ষমতায়, বাংলাদেশকে পাঁচ পাঁচ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করল, লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করল, হাওয়া ভবন খুলে খাওয়া শুরু করে দিল, দেশের মানুষের শিক্ষা-দীক্ষা সব নষ্ট করে দিল।’ বিএনপি-জামায়াত আমলে দেশ পিছিয়ে গিয়েছিল জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষ সামনের দিকে এগোয়, পেছনে চলে যায় তা তো কখনও দেখিনি। তারা সেটাই দেখাল।’ জনগণের কল্যাণে কাজ করে
যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে না জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করব, আমার বাবার আদর্শ বাস্তবায়ন করব, স্বপ্ন পূরণ করব। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাব।’ বিগত আওয়ামী লীগ শাসন আমলে দেশের অগ্রগতির কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছে। উন্নয়ন কাজের ৯০ শতাংশ আমরা নিজস্ব অর্থায়নে করতে পারি। সেই সক্ষমতা আমরা অর্জন করেছি।’ পদ্মাসেতু ইস্যুতে একটি মহল দুর্নীতির অপবাদ দিতে চেয়েছিল জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পদ্মাসেতু নিয়ে আমাদের ওপর অপবাদ দিতে চেয়েছিল। আমার ছোট বোন রেহানা এখানে থাকে। খুব সাধারণভাবে চলাচল করে, জীবনযাপন করে, নিজে কাজ করে খায়। তাকেও পর্যন্ত জড়াতে চেয়েছিল, দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিল। ’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম, বিশ্বব্যাংককে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম যে প্রমাণ করতে হবে দুর্নীতি হয়েছে। তারা প্রমাণ করতে পারেনি। কোন দুর্নীতি হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দুর্নীতি করতে আসিনি, আমরা নিজেদের ভাগ্য গড়তে আসিনি, আমরা জনগণের ভাগ্য গড়তে এসেছি, জনগণের ভাগ্য গড়াটাই আমাদের লক্ষ্য, আর সেলক্ষ্য বাস্তবায়ন করার জন্যই আমরা কাজ করছি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ।
Publisher - Lutfur Rahman (Uzzal)
Published By The Editor From chttimes (Pvt.) Limited (Reg.No:-chttimes-83/2016)
Main Road,Gurosthan Mosque Market, Infront of district food Storage, Bandarban hill district,Bandarban.
Phone - News - 01673718271 Ad - 01876045846
Copyright © 2025 Chttimes.com. All rights reserved.