

স্পোর্টস ডেস্কঃ-আসন্ন অ্যাশেজ সিরিজে বল টেম্পারিং এর মত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ‘স্মার্ট ক্রিকেট বল’ নিয়ে আসছে অস্ট্রেলিয়া।এই বল শুধু বল টেম্পারিং প্রতিরোধ করবে তাই না কোন খেলোয়াড় যদি এর চেষ্টা চালায় তাহলে মাঠে অবস্থিত আম্পায়ারকেও এই বিষয় সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।বল টেম্পারিং নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে বেশ তোলপাড় চলছে মিডিয়া এবং ক্রিকেট বিশ্বে।আর এই আসন্ন অ্যাশেজ সিরিজে বল টেম্পারিং এর মত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ‘স্মার্ট ক্রিকেট বল’ নিয়ে আসছে অস্ট্রেলিয়া।এই ‘স্মার্ট ক্রিকেট বল’ এর চূড়ান্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে।এই বল শুধু বল টেম্পারিং প্রতিরোধ করবে তাই না কোনও খেলোয়াড় যদি এর চেষ্টা চালায় তাহলে মাঠে অবস্থিত আম্পায়ারকেও এই বিষয় সম্পর্কে অবগত করবে।অস্ট্রেলিয়ার সুইনবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফ্রাঞ্জ কনস্ট্যান্টিন ফস এবং তার অধীন পিএইচডি শিক্ষার্থী বাটডেলগার ডলজিন এই স্মার্ট বলটি সত্যিতে পরিণত করেন। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটার ড. রেনে ফেরদিন্যান্ডের সহযোগিতা করেন।প্রথমে স্মার্ট বলটি অধ্যাপক কনস্ট্যান্টিন ও ড.রেনে বানিয়েছিলেন স্পিন বোলারদের বলের গতি ও অন্যান্য বিষয়গুলো খুঁতিয়ে দেখার জন্য।অধ্যাপক কনস্ট্যান্টিনের প্রযুক্তিগত ধারণা আর ড. রেনে ফেরদিন্যান্ডের ক্রিকেট বিষয়ক গভীর জ্ঞানের ফল এই অত্যাধুনিক বল।স্মার্ট বলে প্রধান তিনটি প্রধান অংশ থাকবে। নতুন প্রযুক্তির এই বলে থাকবে একটি মাইক্রো চিপ সাথে ক্ষুদ্র ক্যামেরা।পুরো বলটি আবৃত থাকবে বিশেষ ধরণের রসায়নিক আবরণ দিয়ে।মাইক্রো চিপটি বলে কোন ধরণের গর্ত বা কামড় দিয়ে বিকৃত করা থেকে বিরত রাখবে।ক্যামেরাটি হবে নাইন নেটওয়ার্কের স্ট্যাম্প ক্যামের একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ। খেলার সময় এটি তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে লাইভ আলোকচিত্র দিবে।পুরো বলটি ন্যানো পার্টিকেল দিয়ে আবৃত থাকবে যাতে শিরিষ কাগজ বা অন্য কোন খসখসে কিছু দিয়ে বল টেম্পারিং না করা যায়। এছাড়াও বলে সীমে বিশেষ ধরণের ইন্ডিক্যাটোর দেয়ার কথা আছে যাতে বলের সীম নখ দিয়ে খুঁচিয়ে যে টেম্পারিং করা হয় তা না করা যায়।অধ্যাপক কনস্ট্যান্টিন আশা করেন যে এই স্মার্ট বলের মাধ্যমে বল টেম্পারিং এর মত অপকর্ম রোধ করা যাবে।অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ;ডেভিড ওয়ারনার আর ক্যামেরন ব্যাঙ্ক্রফটের বল টেম্পারিং ঘটনার পরে ক্রিকেট বিশ্বে বল টেম্পারিং নিয়ে হঠাৎই শোরগোল পড়েছে।তারা পরে স্বীকার করেছেন যে শিরিষ জাতীয় কাগজে বল টেম্পারিং করেছেন।গবেষক এবং প্রাক্তন ক্রিকেটারগণ আশা করছেন যে স্মার্ট বলটি ক্রিকেট দুনিয়ায় সবচেয়ে লজ্জাজনক কাজ থেকে পরিত্রান ঘটাবে।উচ্চ প্রযুক্তির এই স্মার্ট বল নির্মাণে প্রতি বলে খরচ হবে প্রায় ২০০০ ইউ এস ডলার।কিন্তু ক্রিকেট বিশারদগণ মনে করেন টেস্ট ক্রিকেটের মর্যাদা পুনরদ্ধারের জন্য এতটুকু খরচ কিছুই না। আগামী বছর জুলাই মাসে হতে যাওয়া অ্যাশেজ সিরিজে যাতে স্মার্ট বলটি ব্যবহার করা যায় তার জন্য অস্ট্রেলিয়ান ও ব্রিটিশ ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ সুইনবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের কাছে আগামী বছরের এপ্রিল মাসের মধ্যে এটিকে ব্যবহারের উপযুক্ত হিসাবে দেখতে চেয়ে বিশেষ অনুরোধ করেছেন।