

ইমতিয়াজ রেজা (নিজস্ব প্রতিবেদক) ঢাকাঃ-মিডিয়ার কথিত মডেল অর্পি অর্পিতা কে নিয়ে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন।দিনরাত নানা নামে বেশকিছু ভুঁয়া ফেসবুক আইডি ও বিকাশ নাম্বার দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।এ পর্যন্ত তাঁর সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা যায় তাঁর নিজের নামে বেনামে রয়েছে বেশকয়েক টা ফেসবুক আইডি।কোনও আইডি তে ইংরেজী তে অর্পি অর্পিতা নামে ফেসবুক ব্যাবহার করছে আবার কোনও একটিতে ইংরেজী শব্দের সাথী এনজেল ব্রাকেটে আব্বুর কিউট মেয়ে নামে ফেসবুক ব্যাবহার করছে।মুলত অর্পি অর্পিতা ওরফে সাথী এনজেলই হলো কলকাতার মডেল মিষ্টি দত্ত (মিলি)।এসব আইডির কোনওটা তে বলা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর ছাত্রী আবার কোনওটা তে উল্লেখ করা হয়েছে স্ট্যাম্পফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্রী।যদিও ফেসবুকে মিষ্টি দত্ত নামেই রয়েছে তিনটি ফেসবুক আইডি যার কোনওটিতে ইংরেজী তে মিষ্টি দত্ত লিখে ব্রাকেটে নীলা যুক্ত করা হয়েছে আবার কোনওটা তে মিষ্টি দত্ত লিখে ব্রাকেটে ইংরেজীতে (mili) যুক্ত করা হয়েছে।সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো মিষ্টি দত্ত কে নিয়ে কোনও গণমাধ্যমে তাঁর মডেলিং পেশা নিয়ে কোনও সংবাদ প্রকাশ হতে দেখা যায়নি এমনকি মিষ্টি দত্ত মিলিও তাঁর মডেলিং পেশা নিয়ে প্রকাশিত কোনও সংবাদ পত্রের নিউজ লিংক কিংবা পেপার কাটিং তাঁর ফেসবুক ওয়াল কিংবা ফেসবুক ফ্যানপেজ থেকে শেয়ার করতে দেখা যায়নি যদিও ফেসবুকে তাঁর নিজের নামে তিনটি ফেসবুক ফ্যানপেজ এর সন্ধানও পাওয়া গেছে।
আর ফেসবুক আইডি গুলোর কোনওটায় নিজেকে পেশাদার মডেল কোনওটায় কলকাতা থেকে ঢাকায় পড়তে আসা ছাত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফেসবুক আইডি গুলো খুলা হয়েছে।মুলত মিষ্টি দত্ত মিলির ছবি ব্যাবহার করে কলকাতা ও বাংলাদেশেরই একটি অসাধু দুষ্ট চক্র বিভিন্ন ফেসবুক আইডি তে মিষ্টি দত্ত মিলির ছবি ব্যাবহার করে নামে বেনামে ছদ্মবেশে ইমু সেক্স বানিজ্যের কথা বলে কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।এসব আইডির কোনওটিতে স্ট্যাম্পফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত জানালেও অর্পি অর্পিতা আইডি তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর ছাত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছে।সত্যিই কি সে এইসব প্রতিষ্ঠানের ছাত্রী কিনা তা নিয়ে রহস্যের ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।পেশায় মডেল মিষ্টি দত্ত মিলির ছবি ব্যাবহার করে আইডি খুুুলে সেসব আইডি থেকে ইমু সেক্স করার কথা বলেই কলকাতা এবং বাংলাদেশ এর একটি অসাধু চক্র কৌতূহলী তরুণদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।পাশাপাশি তাঁদের রয়েছে অসংখ্য মোবাইল সিম ও ইমু আইডি।সেসব ইমু আইডির কোনও টা তে অনিক নামে আবার কোনও টায় অর্পি অর্পিতা নামেই নিবন্ধন করা হয়েছে।এছাড়াও তাঁদের নেতৃত্বে রয়েছে বিশ থেকে ত্রিশ জনের একটি সিন্ডিকেট,তাদের মধ্যে উলেখযোগ্য হলো রিমঝিম বৃষ্টি,এনজেল তানিয়া সহ প্রভৃতি ফেসবুক আইডি (ধারনা করা হচ্ছে এগুলো সবগুলোই ফেইক আইডি)।তাদের নিয়ন্ত্রণে প্রবাসী বিনোদন ১৮+ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপও চালু রয়েছে (যদিও প্রবাসী বিনোদন ১৮+ গ্রুপটিও রহস্যজনকভাবে এই সংবাদ প্রকাশের পর থেকে ফেসবুকে খুজেঁ পাওয়া যাচ্ছে না)।যেখানে প্রায় আড়াই হাজারের মতো সদস্য সক্রিয় ছিলো।আর এই ফেসবুক গ্রুপের এডমিন হিসেবে কাজ করছে অর্পি অর্পিতা,রিমঝিম বৃষ্টি,মাহফুজ খান নামের ছদ্মবেশী জনৈক ব্যাক্তিরা।
অর্পি অর্পিতা নামে আইডির হাতে প্রতারণার স্বীকার হয়েছে বাংলাদেশ এর শত শত ব্যাক্তি।কেউ মুখ খুলছে আবার কেউ কেউ মানসম্মানের দিকে তাকিয়ে নিরব থাকছে।অর্পি অর্পিতা ওরফে সাথী এনজেল এই দুই আইডি এতটাই ধুরন্ধর এবং চালাক প্রকৃতির যে যখন তখন আধা ঘন্টা এক ঘন্টার ফেসবুক চ্যাটিং এর মাধ্যমে টার্গেট করা ব্যাক্তি কে বশে নিয়ে আসে।সর্বশেষ তাঁর ব্যাবহ্রত বিকাশ এর যে নাম্বারটি পাওয়া গেছে তা হলো রবি মোবাইল ফোন কোম্পানির।এখন পর্যন্ত বিভিন্ন তরুনকে পাঠানো তার তিনটি মোবাইল নাম্বার খুজে পাওয়া গেছে,নাম্বার গুলো হলোঃ-(বাংলালিংকঃ-01969255231,গ্রামীন ফোনঃ-01779291508 এবং রবিঃ-01822302589),সর্বশেষ রবি নাম্বার দিয়েই সোমবার দিবাগত রাত এগারোটায় সজীব চক্রবর্তী নামে এক ফেসবুক ব্যাবহারকারীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে প্রদান করেছিলো।কিন্তু সজীব চক্রবর্তী টাকা পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলার সাথে সাথে অর্পি অর্পিতা সজীব কে ব্লক করে দেয় এবং মোবাইল নাম্বার টি বন্ধ পাওয়া যায়।এই মোবাইল নাম্বার মঙ্গলবার সকাল নয়টা থেকে সাড়ে নয়টার মাঝামাঝি কোনও একটা সময় চালু করা হলেও পুনরায় তা বন্ধ পাওয়া যায়।সজীব চক্রবর্তী সিএইচটি টাইমস ডটকমকে বলেন,তাঁদের প্রতারণা সম্পর্কে আমি জানতাম।তাই আমিও তাদের ওই আইডি তে টাকা পাঠানোর একটা ফেইক এসএমএস করেছি।তারা ভেবেছে আমি সত্যি সত্যিই টাকা পাঠিয়েছি আর টাকা পাঠানোর কথা তাকে জানানোর সাথে সাথে আমাকে সে ব্লক করে।আপনাদের প্রকাশিত সংবাদ এর মাধ্যমে সবার কাছে অনুরোধ আপনারা কেউ তাঁদের পাতা ফাঁদে পা দিবেন না।এই চক্রের নেটওয়ার্ক এতটাই লম্বা এবং শক্তিশালী যে কক্সবাজার থেকে সরাসরি ইয়াবা কিনে বিভিন্ন কৌশলে ঢাকা শহরে নিয়ে আসে।তাছাড়া ফেসবুকে অর্পিতার খোলামেলা ছবি পোষ্ট করে মূলত তরুণদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য।এই সুযোগে তরুণদের সাথে ফেসবুকের ইনবক্সে কথাবার্তা বলে ইমু সেক্স করার প্রস্তাব দেয় এবং টাকা ছাড়া তাঁরা কোনওভাবেই নাম্বার দিতে রাজি হয়না।
জানা যায় মিষ্টি দত্ত মিলির নামে রয়েছে একাধিক ভুঁয়া ছদ্মবেশী ফেসবুক আইডি যার প্রতিটি আইডিতেই নিয়মিত ছবি আপলোড করা হতো।যেগুলো কলকাতা ও বাংলাদেশের একটি অসাধু চক্রের সাঙ্গপাঙ্গরাই চালিয়ে থাকে।নিয়মিত মাদক (ইয়াবা) সেবনের জন্য তাঁদের দৈনিক তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকার প্রয়োজন হয় যা ফেসবুকের সেসব ফেইক আইডি থেকে নিজেদের ইমু কিংবা অন্য পন্থায় উজার করে দেয়ার প্রলোভন সৃষ্টি করে টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাদের নিজেদেরই মাদক সেবনের খরচ মেটানোর কাজে ব্যাবহার করে থাকতে পারে বলে ধারনা করা যায়।এদিকে উক্ত বিষয়ে অর্পি অর্পিতা ওরফে এনজেল সাথী ওরফে মিষ্টি দত্ত মিলি’র মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করার জন্য সিএইচটি টাইমস ডটকম এর পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হলেও কোনওভাবেই তাঁর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এমনকি মোবাইল নাম্বারও পাওয়া যায়নি।তবে মিষ্টি দত্ত (মিলি) নামের একটি আইডি থেকে মিষ্টি দত্ত নামের জনৈক মডেল (https://www.facebook.com/minakshi.chowdhury.54) এটাই তাঁর একমাত্র ফেসবুক আইডি বলে দাবি করেছেন।উক্ত আইডি থেকে তিনি গতরাত বুধবার আনুমানিক ১১টা ২৬ মিনিটের সময় তাঁর ছবি দিয়ে ফেসবুকে চালু থাকা কয়েকটি ফেইক আইডি ও ফ্যান পেজের স্ক্রীনশট পোষ্ট করেছেন।
ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন,এগুলো কোনওটাই আমার প্রোফাইল বা পেইজ নয়।আরও কিছু পেইজ বা প্রোফাইল আছে যারা আমি (মিষ্টি দত্ত মিলি) সেজে বদমাইশি করছে।যেগুলো তে হয়তো আমি ব্লকড।অনেকে বলছে কিন্তু আমি খুজেঁ পাচ্ছি না।কেউ যদি নিজে গাধা হয় তাঁর দায়ভারতো আমার নয়।আর আপনাদের কাছে যদি কোনও প্রোফাইল কিংবা ফেইক পেজ এর লিংক থাকে দয়াকরে আমাকে ইনবক্সে পাঠান কিন্তু কমেন্ট বক্সে পাঠাবেন না।এদিকে গত সোমবার (২২ আগস্ট) রাত ৩টার পর থেকে প্রতারণার কাজে ব্যাপকভাবে ব্যাবহ্রত ফেসবুক আইডি অর্পি অর্পিতা রহস্যজনকভাবে ডিজাবল হয়ে গেছে।বর্তমানে মিষ্টি দত্ত নামে ফেসবুকে ৩ টি আইডি খুজেঁ পাওয়া যাচ্ছে যার একটি আইডি তে ব্রাকেটে ইংরেজী তে mili লেখা রয়েছে।কিন্তু মিষ্টি দত্ত মিলি’র এই আইডিটাই যদি তাঁর সত্যিকারের ফেসবুক আইডি হয়ে থাকে তাহলে ধরে নেয়া যায় তাঁর ছবি দিয়ে কেউ না কেউ একই নামে অন্য দুটি আইডি সক্রিয় করেছে।অন্য দিকে মিষ্টি দত্ত (মিলি) আইডিটাও যে সত্যিকারের আইডি তা নিয়েও ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।ফেসবুকে থাকা মিষ্টি দত্তের অন্য দুইটি আইডি লিংক হলোঃ-1.(((https://www.facebook.com/misti.datta.775)))/2.(((https://www.facebook.com/TheMisti)))অর্পি অর্পিতা ওরফে সাথী এনজেল ওরফে মিষ্টি দত্ত ওরফে মিষ্টি দত্ত (মিলি) নাম ধারন করে কেউ যদি আপনাদের সাথে প্রতারণা করে থাকে কিংবা আপনাদের কারও কাছে কোনও তথ্য থাকে সেসব তথ্য সিএইচটি টাইমস ডটকম নিউজ পোর্টাল এর ফ্যান পেজ ইনবক্সে পাঠাতে অনুরোধ জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতারণার স্বীকার হওয়া ব্যাক্তিরা।প্রতারণার স্বীকার ব্যাক্তিদের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে এই ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশনা অব্যাহত রাখা হবে বলে নিশ্চিত করেছে সিএইচটি টাইমস ডটকম কতৃপক্ষ।সবকিছু মিলিয়ে রহস্যে ঘেরা কলকাতার মডেল মিষ্টি দত্ত মিলির রহস্যজনক নীরবতা নানারকম প্রশ্ন তৈরী করেছে।পাশাপাশি যার ছবি ব্যাবহার করে ফেসবুকে এতো এতো কান্ড তৈরী হয়েছে তাঁর একটি সঠিক জবাব মিষ্টি দত্ত মিলি গনমাধ্যম এর কাছে পরিষ্কার করবেন বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন প্রতারণার স্বীকার হওয়া ভুক্তভোগীরা।এদিকে সংবাদ প্রতিবেদক ইমতিয়াজ রেজা কলকাতার মডেল যিনি নিজেকে সত্যিকারের মিষ্টি দত্ত মিলি হিসেবে দাবী করেছেন তাঁর সাথে ফেসবুকে যোগাযোগ করেছেন।এবিষয়ে মিলি তাঁর সুস্পষ্ট বক্তব্য দিতে রাজি হয়েছেন যা ধারাবাহিক প্রতিবেদন এর তৃতীয় পর্বে প্রকাশ করা হবে।ইতিমধ্যে মিষ্টি দত্ত মিলের ইমেইল ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে।(চলমান পর্বঃ-২)