

বান্দরবান অফিসঃ-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার উল্লেখ করে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে।তিনি বলেন: যুক্তরাজ্য থেকে তারেক রহমানকে বাংলাদেশ কিংবা আন্তর্জাতিক কোন সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। শুধু তারেক রহমান কেন,মানবাধিকারের প্রশ্নে নিপীড়িত কোন ব্যক্তিকেই যুক্তরাজ্য এভাবে অনিরাপদ করে কারও হাতে তুলে দেয় না।লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে’র কাছে সম্প্রতি চিঠি দিয়েছে যুক্তরাজ্য শাখা আওয়ামী লীগ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘১০ ডাউনিং স্ট্রিট’-এর এক কর্মকর্তার হাতে চিঠিটি পৌঁছে দেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতারা। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে টেরেসা মে এসব কথা জানান। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল নিজেদের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায়।টেরেসা মে বলেন: তারেক রহমানের বিষয়ে যুক্তরাজ্য অবগত।তার সম্পর্কে না জেনে তাকে বা অন্য কাউকে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করতে দেওয়া হয় না।আমরা তার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার কথা জানি।সুতরাং তাকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরুর কোন সম্ভাবনা নেই।তিনি যখন বাংলাদেশে ফেরা নিরাপদ মনে করবেন তখনই ফিরতে পারবেন।এর আগে ইন্টারপোল কিংবা অন্য কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা তাকে যুক্তরাজ্য থেকে ফেরত নিতে পারবে না বলেও জানান ব্রিটেনের এই নারী প্রধানমন্ত্রী।তারেক রহমান প্রায় ১০ বছর ধরে স্বপরিবারে অবস্থান করছেন।ওয়ান ইলেভেন আমলে ২০০৭ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান তিনি।গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার ৫ বছর কারাদণ্ড ও তারেক রহমানকে ১০ বছর কারাদণ্ড দেয় আদালত। ওই মামলায় খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলেও লন্ডনে বসে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন তারেক।এরপর সাংগঠনিক প্যাডে লেখা চিঠিতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কথা উল্লেখ করে টেরেসা মে’র কাছে চিঠি দেয় যুক্তরাজ্য শাখা আওয়ামী লীগ। এতে বলা হয়: তারেক রহমান বাংলাদেশের আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দু’টি মামলায় তার কারাদণ্ডের পাশাপাশি আর্থিক জরিমানা হয়েছে। কিন্তু যুক্তরাজ্যে অবস্থান করার মাধ্যমে তারেক রহমান তার অপরাধের সাজা এড়িয়ে যাচ্ছেন।চিঠিতে আরও বলা হয়: সম্প্রতি লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনে বিএনপি নেতাকর্মীরা যে হামলা চালিয়েছে, সেটি তারেক রহমানের নির্দেশে হয়েছে বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে। তারেক রহমানকে পলাতক আসামি উল্লেখ করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয় ওই চিঠিতে।