

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-পার্বত্য জেলা বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব সাংগ্রাই।মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে স্থানীয় রাজার মাঠ সংলগ্ন ফ্লোরা রি স্বং স্বং রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে উৎসব উদযাপন পরিষদ এ তথ্য জানায়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি হ্লাগ্য চিং মার্মা,সহ-সভাপতি মিনি প্রু মার্মা,সহ-সভাপতি এমে চিং মার্মা,সহ-সভাপতি মং মং প্রু মার্মা,সাধারণ সম্পাদক কোকো চিং মার্মা,মহিলা বিষয়ক সম্পাদক একি নু মার্মা,ক্রীড়া সম্পাদক মংথুই প্রু (বাবুশে)।আরো উপস্থিত ছিলেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) মোঃরফিকউল্লাহ্ ও জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চুসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কর্মরত সংবাদকর্মী এবং সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন পরিষদ কর্মীরা।উৎসব উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি মিনি প্রু মার্মা জানান,সাংগ্রাই উৎসবকে আরো প্রাণবস্ত করে তুলতে পাঁচ দিনব্যাপী নেয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি।তার মধ্যে ১৩ এপ্রিল সকালে সাংগ্রাইয়ের বর্ণাঢ্য র্যালি রাজার মাঠ থেকে শুরু হয়ে জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করবে।এ সময় উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।র্যালি ও চিত্রাঙ্কন এবং আপন ঐতিহ্যে সাজ প্রতিযোগিতা এবং বয়স্কদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হবে এবং ১৪ এপ্রিল দুপুরে সাংগু নদীর পাড়ে বুদ্ধ মূর্তি স্নান।১৫ এপ্রিল বিকালে রাজার মাঠে মৈত্রী পানি বর্ষন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।১৬ এপ্রিল শেষ দিনে হিসেবে রাজার মাঠে মৈত্রী পানি বর্ষন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১৬ এপ্রিল সকালে প্রার্থনার মাধ্যমে শেষ হবে সাংগ্রাই উৎসব।এছাড়া আরো রয়েছে ম্যারাথন দৌড়,চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা,পিঠা তৈরী,হাজারো প্রদীপ প্রজ্জলন,বয়স্ক পূজা এবং আদিবাসী নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী নৃত্য-গান।এই উপলক্ষে পাহাড়ী গ্রাম গুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃরফিকউল্লাহ্ সংবাদ সম্মেলনে বলেন,বাংলা নববর্ষ ও সাংগ্রাই উৎসবকে ঘিরে করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।যেকোন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ সজাগ থাকবে।মোটরসাইকেলে একজনের বেশি চলার অনুমতি দেয়া হবে না এবং উৎসব উদযাপন স্থানে কোন ব্যাগ বহন না করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।মারমা সম্প্রদায় সাংগ্রাই,ম্রো সম্প্রদায় চাংক্রান,খেয়াং সম্প্রদায় সাংগ্রান,খুমী সম্প্রদায় সাংগ্রায়, চাকমা সম্প্রদায় বিঝু ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায় বিষু এবং ত্রিপুরা সম্প্রদায় বৈসু,এই চার সম্প্রদায়ের এই উৎসবকে সমষ্টিগত ভাবে বৈসাবি বলা হয়।মারমাদের সাংগ্রাই এর মূল আকর্ষন মৈত্রী পানি বর্ষন উৎসব।সকল পাপাচার ও গ্লানী ধুয়ে মুছে নিতে তরুণ-তরুণীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটানোর উৎসবে মেতে উঠে।পুরাতন বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণের জন্য মূলত এই উৎসব।