

সময়টা ১৯৭১ সাল। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে বেশ কয়েক মাস হলো। ২৫ মার্চ থেকেই এ দেশের মানুষের উপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম অত্যাচার ও বর্বর গণহত্যা শুরু হয়। এমন পরিস্থিতিতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয় লাখো বাঙালি। সংকটের এই সময়ে বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন বিখ্যাত এক সঙ্গীতশিল্পী। তিনি হলেন জর্জ হ্যারিসন। আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি এই বিখ্যাত শিল্পীর জন্মদিন।
একাত্তরের সেই দুঃসহ সময়ে এদেশের মানুষকে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ আয়োজন করেছিলেন তিনি। ভারতীয় পণ্ডিত রবিশংকরের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশের সমর্থনে দুটি দাতব্য সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করেন হ্যারিসন। অনুষ্ঠানে নিজের লেখা মর্মস্পর্শী ‘বাংলাদেশ’ গানটি পরিবেশন করেন এই শিল্পী।
হ্যারিসনের সঙ্গীতানুষ্ঠান থেকে তোলা হয় আড়াই লাখ মার্কিন ডলার, যা দেয়া হয়েছিল ভারতে থাকা বাংলাদেশি উদ্বাস্তুদের। ১৯৪৩ সালের আজকের দিনটিতে জন্মেছিলেন গুণী এই শিল্পী। জর্জ হ্যারিসন সঙ্গীত পরিচালনা, রেকর্ড প্রযোজনা এবং চলচ্চিত্র প্রযোজনা- সবক্ষেত্রে সমান দক্ষতার ছাপ রেখেছেন।
দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ-এর বড় আকর্ষণ ছিলেন বব ডিলান ও জর্জ হ্যারিসন। অসাধারণ গিটার বাজিয়েছিলেন এরিক ক্ল্যাপটন। জর্জ হ্যারিসন আটটি গান গেয়েছিলেন কনসার্টে। এর একটি ছিল বব ডিলানের সঙ্গে। আর বব ডিলান গেয়েছিলেন পাঁচটি গান। অনুষ্ঠানের শেষ পরিবেশনায় ছিল জর্জ হ্যারিসনের সেই অবিস্মরণীয় ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ গানটি।
২০০৫ সালে নতুন করে প্রকাশিত হয়েছে দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ অ্যালবামের ডিভিডি। অবশ্য তার আগেই ২০০১ সালে ২৯ নভেম্বর ৫৮ বছর বয়সে মারা যান বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু জর্জ হ্যারিসন। এদেশের মানুষের প্রতি তিনি যেমন ভালোবাসা দেখিয়েছিলেন, তেমনি বাংলাদেশের মানুষও যুগ যুগ ধরে ভালোবাসার অনুভূতি নিয়ে স্মরণ করবে তাকে।