

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী এপ্রিলে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলটিং) সিঙ্গাপুরে যেসব বাংলাদেশি থাকেন তাদেরকে ভোটার করা হবে। এ লক্ষ্যে মধ্য ফেব্রুয়ারিতে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলকে পাঠানো হচ্ছে সেখানে। সিঙ্গাপুরের কয়েকটি স্থানে ভোটার নিবন্ধন ক্যাম্প স্থাপন করে ইসির বিশেষজ্ঞরা প্রবাসীদের ভোটার করার কার্যক্রম শুরু করবেন। সেখানে সফলতা পাওয়া গেলে পরবর্তীতে অন্যান্য দেশে গিয়ে বাংলাদেশিদের ভোটার করা হবে।
নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, প্রবাসীদের ভোটার করার পাইলটিং হবে সিঙ্গাপুরে। এরপর দুবাইতে প্রবাসীদের ভোটার করার কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথমে একটি ৫৭ সদস্যের দল সিঙ্গাপুর যাবে। অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ভিত্তিতে পরে কারিগরি দল পাঠানো হবে। নির্বাচন কমিশন জানান, ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নয়, প্রবাসীদের হাতে এনআইডি কার্ড তুলে দেওয়া তাদের প্রধান লক্ষ্য। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাই প্রথম ভোটাধিকার সুযোগ পাবেন।
এক দশক আগে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও জাতীয় পরিচপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার করার দাবিও আলোচনায় আসে। কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন গতবছর এপ্রিলে ‘প্রবাসী বাংলাদেশিদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান ও ভোটাধিকার প্রয়োগ’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে। সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা সে সময়ে না করা গেলেও তাদের হাতে জাতীয় পরিচয়পত্র তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, যেসব দেশে পাসপোর্ট, ভিসা বা অন্যান্য বিষয় নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঝামেলা কম, সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে এনআইডি সেবা চালুর পরিকল্পনা সাজিয়েছেন তারা। তিনি আরো বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে সিঙ্গাপুরেই পাইলট প্রকল্পের প্ল্যান করেছি। ছোট দেশ, সেখানে বাংলাদেশিদের এনআইডি সেবা দিতে পারলে পরে অন্য দেশেও কাজ করতে পারব।`
পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে একটি প্রতিনিধি দল সিঙ্গাপুরে যাবে, তারা সেখানে গভার্নমেন্ট টু গভার্নমেন্ট আলোচনা করবে। সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দূতাবাস ও সবার সঙ্গে কথা বলে তারা প্রতিবেদন দেবে এবং তার ভিত্তিতেই কাজ করবে নির্বাচন কমিশন।
স্মার্ট কার্ড প্রকল্পের পরিচালক সাইদুল ইসলাম বলেন; ইসির অনুমোদন পেলে মধ্য ফেব্রুয়ারিতেই প্রতিনিধি দলটি সিঙ্গাপুরে যাবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেজিস্ট্রেশন কীভাবে করা যায়, কোথায় নিবন্ধন সেন্টার হবে, লোকবল কেমন লাগবে, পদ্ধতিগত কী কী জটিলতা থাকতে পারে – সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে তারা প্রতিবেদন দেবে।
১৬ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে বর্তমানে ১০ কোটি ৪২ লাখের বেশি নাগরিক ভোটার তালিকাভুক্ত। আর ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ের হিসাব পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল ৭৫ লাখের মত। দেশে না ফিরে জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়তই প্রবাসী বাংলাদেশিদের নানা সমস্যা ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান নির্বাচন কমিশন প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।