

উন্নয়নের পথে দূর্বার এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, এটা এখন আর স্বপ্ন কিংবা কল্পনা নয়, বাস্তবতা। উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রায় অর্থনীতিকে সর্বাধিক সহায়তা করছে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কোটি প্রবাসীর পাঠানো রেমিট্যান্স। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখেরও বেশি প্রবাসী বিশ্বের প্রায় ১৬০ টিরও অধিক দেশে কর্মরত আছেন। আর এই প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ বছর বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) প্রথম ৮ মাসে ১০ হাজার ৪১০ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এটি বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৪৯ দশমিক শূন্য ৬ মার্কিন ডলার বেশি। অর্থাৎ এ সময়ে রেমিট্যান্স ১০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ মাসে বাংলাদেশ ৯ হাজার ৪৬১ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে।
চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অগ্রণী, জনতা, রূপালী, সোনালী, বেসিক ও ডিবিবিএল—এই ৬টি রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক ২৮০ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার গ্রহণ করে। আর একমাত্র রাষ্ট্র মালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংক বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ১৫ দশমিক শূন্য ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার গ্রহণ করে।
রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক ১১৩ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, জনতা ব্যাংক ৭০ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, রূপালী ব্যাংক ১৪ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, সোনালী ব্যাংক ৮১ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ও বেসিক ব্যাংক শূন্য দশমিক শূন্য ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার গ্রহণ করে।
অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রবাসীরা এক হাজার ১১ দশমিক শূন্য ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রেরণ করে। এসব বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (আইবিবিএল) সবচেয়ে বেশি অর্থ ২০৬ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার গ্রহণ করে। ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড (ডিবিবিএল) ১৪০ দশমিক ৯০ মার্কিন ডলার গ্রহণ করে। অপর দিকে প্রবাসীরা ১০ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে পাঠান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান মুখপাত্র এম. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে রেমিট্যান্সের গতি ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবাসী বাংলাদেশিদের আইনগত বৈধ উপায়ে দেশে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত করার যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ায় এটা সম্ভব হয়েছে।’
টাকার বিপরীতে ডলারের তেজি ভাব এবং হুন্ডি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের কারণে গত অর্থবছরের মতো চলতি অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরের বাকি মাসগুলোতেও রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে অভিমত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ।