

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ত্রান নিয়ে যাওয়ার পথে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ প্রতিনিধি দলের ওপর হামলা খুব অন্যায় বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।তিনি বলেছেন,যারাই হামলা করেছেন এটা খুব অন্যায়।আওয়ামী লীগ এটা খতিয়ে দেখছে।তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী আরও বলেন,আমি স্বরাষ্টমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম।আইজি সাহেবের সঙ্গে কথা বলেছি।চট্টগ্রামের ডিসি-এডিশনাল এসপির সঙ্গে কথা বলেছি।কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে।আজ রোববার (১৮ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিমানবন্দর সড়কের বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।এ সময় পাল্টা একটি অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন,বিএনপি পুলিশকে সঠিক তথ্য দেয় না।তাদের রাউজান হয়ে যাওয়ার তথ্য ছিলো পুলিশের কাছে।পরে তারা বামুনিয়া হয়ে গেছে।পুলিশের কাছে এ তথ্য ছিলো না।তথ্য থাকলে পুলিশ ওখানেই পাহারার ব্যবস্থা করতো।ওবায়দুল কাদের জানান,পুলিশ এসে আবার ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর অনুরোধ করলেও তারা ত্রাণ কার্যক্রমে রাজি না হয়ে ফিরে গেছেন।এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন,বিএনপি তো নিজেরা নিজেরাই মারামারিতে লিপ্ত।তবে এই ঘটনা আমি এভাবে দেখছি না।বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা কেউ ঘটিয়ে থাকলে,পুলিশকে বলা হয়েছে,নিরপেক্ষ তদন্ত করে যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।এদিকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘এই হামলার জন্য আওয়ামী লীগের লোকজনই দায়ী বলে আমাদের বিশ্বাস।অতর্কিতে হামলা চালানোর কারণে আমরা কোনও দিকে তাকানোরই সুযোগ পাইনি।’ মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রায় ২০-২৫ জন লোক অতর্কিতে গাড়িবহরে লাঠিসোঁটা,রামদাসহ হামলা করে।আমার গাড়ির কাচ ভেঙে গেছে।গাড়ি তছনছ করা হয়েছে।গাড়ির ভাঙা কাচ আমার শরীরে এসে লেগেছে।আমিসহ আমাদের কয়েকজন নেতা আহত হয়েছেন।স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়,চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক হয়ে ৪টি গাড়ি রাঙ্গামাটির দিকে যাচ্ছিলো।এসময় ইছাখালী হাসপাতালের সামনে হঠাৎ ২৫/৩০ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে গাড়িগুলোর গতিরোধ করে।এক পর্যায়ে কিছু বুঝে উঠার আগেই তারা গাড়ি বহরে হামলা ও ভাংচুর করে দ্রুত পালিয়ে যায়।এতে গাড়িতে থাকা মহাসচিব মির্জা ফখরুল,স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী,চট্টগ্রাম জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেজর জেনারেল রুহুল আলম চৌধুরী,চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবে রহমান শামীম রক্তাক্ত হন।এরপর দুর্বৃত্তরা সাংবাদিকসহ আরো তিনটি গাড়িতে হামলা চালায়।এতে আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।পরে চালকেরা দ্রুত গাড়ি চালিয়ে নিরাপদে চলে যায়।এক পর্যায়ে আতঙ্কিত নেতারা স্থানীয় একটি মসজিদ ও মাদ্রাসায় আশ্রয় নেন।পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।পরে গাড়িগুলো রাঙ্গামাটির দিকে অগ্রসর না হয়ে চট্টগ্রামের দিকে ফেরত যায়।গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম,রাঙ্গামাটি, বান্দরবানের পাহাড় ধসে দেড়শরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।এই ঘটনায় বিশেষ করে রাঙ্গামাটির পরিস্থিতি শোচনীয়।সড়ক যোগাযোগ ভেঙে পড়ায় পণ্য সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।বিকল্প পথে পণ্য পাঠানো শুরু হলেও বাড়তে দামে নিত্যপণ্য কিনতে হচ্ছে মানুষকে।তবে শ্রমজীবী মানুষরা আছে বিপাকে।কারণ,কাজ কমে যাওয়ায় আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে গেছে অনেকের।এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সামাজিক,রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছে উপদ্রুত এলাকায়।বিএনপিও কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে দুর্গত এলাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।এরই অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ও চট্টগ্রাম বিএনপির নেতাদের নিয়ে রবিবার রাঙ্গামাটি যাচ্ছিলেন বিএনপি মহাসচিব।সেখানে গিয়ে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণের কর্মসূচি ছিল।কিন্তু পথিমধ্যে গাড়িবহরে হামলা হওয়ায় বিএনপি নেতারা চট্টগ্রামের দিকে ফিরে আসছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ফাওয়াজ শুভ।