

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়ন হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ ও পিবিআই।খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক মো:আব্দুল হান্নান জানান,শুক্রবার খাগড়াছড়ি পুলিশ ও পিবিআই চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে জুনেল চাকমাকে (১৯) ও তার স্বীকারোক্তির প্রেক্ষিতে রাতে দীঘিনালা থেকে রুনেল চাকমাকে (৩৬) আটক করা হয়।তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নয়নের মোটরসাইলটি উদ্বারে চেষ্টা চালায় স্থানীয় প্রশাসন।পরবর্তীতে তারা সেনাবাহিনীর সহযোগীতা কামনা করে।এ প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর অনুরোধে আজ শনিবার বেলা ১১টা থেকে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মাইনী নদীতে অভিযান পরিচালনা করে কাপ্তাইয়ের শহীদ মোয়াজ্জেম নৌ ঘাটিঁর একটি ডুবুরী দল।ডুবুরী দলের অভিযানে নয়নের ব্যাবহার করা মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়।অভিযানস্থলে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আলী আহম্মদ খান,নৌবাহিনীর লে:এম কবীর হোসেন,পিবিআই চট্টগ্রাম ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাঈন উদ্দিন, খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম সালাহউদ্দীন,দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সামসুদ্দিন ভূইয়া,খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান উপস্থিত ছিলেন।খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান আটকের বিষয় নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নয়নকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নিহত নয়নের মোটরসাইকেল উদ্ধারে মাইনী নদীতে নৌ বাহিনীর একটি ডুবুরী দল অভিযান চালায়।
চট্টগ্রাম থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিটও অভিযান কাজে যোগ দেয়।খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক মো: আব্দুল হান্নান জানান,২ জুন লংগদুতে পাহাড়ি বাড়ী-ঘরে আগুন দেওয়ার পর ভয়ে সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেলটি মাইনী নদীতে ফেলে দেয়।উল্লেখ্য যে,গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভাড়ায় মোটর সাইকেল চালক ছাদিকুল ইসলামকে (২৩) দুই উপজাতি মহালছড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে রাঙ্গামাটির ঘিলাছড়ি উদ্দেশ্যে ভাড়া করে নিয়ে যাওয়ার পর ছাদিকুল ইসলাম নিখোঁজ হন।তিনদিন পর ১৩ এপ্রিল বিকালে রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলার ঘিলাছড়ি এলাকায় ছাদিকুল ইসলামের ক্ষতবিক্ষত লাশ মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়।পরবর্তীতে নানিয়ারচরের কৃঞ্চমাছড়া গ্রামের বাসিন্দা সাধক চন্দ্র চাকমার ছেলে চিরঞ্জিত চাকমা (৩৬) ওরফে ঠিক বাবু এবং শুক্র কুমার চাকমার ছেলে কৃঞ্চ বিকাশ চাকমা (২৯) ওরফে চোখ্যা কে ছাদিকুল হত্যার সাথে জড়িত থাকার কারনে গ্রেফতার করা হয়।সরেজমিনে খোজ নিয়ে জানা যায় যে,গত প্রায় সাড়ে ৬ বছরে খাগড়াছড়িতে অন্তত ৮জন বাংগালী মোটর সাইকেল চালক যাত্রী বেশীদের হাতে খুন হয়েছে।গুম হয়েছেন ৮জন।এদের মধ্যে একজন ছাড়া সকলেই খাগড়াছড়ির বাসিন্দা।অপহরণ হয়েছে অন্তত এক ডজন।এছাড়া অস্ত্রের মুখে মোটরসাইকেল ছিনতাই ও চুরি হয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক। এসকল ঘটনায় আঞ্চলিক উপজাতি সশস্ত্র সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গিয়েছে।