

সিএইচটি টাইমস নিউজ ডেস্কঃ-মাথা গুজার ঠাঁই না থাকায় পরিবার নিয়ে বান্দরবান শহরের কাছে আমতলি ঘোনা এলাকায় ঘর বানিয়ে বসবাস করছিলেন দিনমজুর আবদুল আজিজ।পাহাড় কেটে মাটি সরিয়ে সেখানেই ঘর বানান তিনি।কিন্তু স্বপ্নেও ভাবেননি তার জীবনে এমন বিপর্যয় নেমে আসবে। স্ত্রী-সন্তান হারিয়ে নির্বাক এখন আবদুল আজিজ।মঙ্গলবার ভোর রাতে প্রবল বৃষ্টির সময় লেমু ঝিরি আমতলি ঘোনা নামক স্থানে পাহাড় ধসে মাটি চাপায় আবদুল আজিজের স্ত্রী কামরুন্নাহার বেগম (৪০) ও ৮ বছরের শিশু সুখিয়া বেগম নিহত হন।মাটি সরিয়ে এখনো তাদের লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।সকাল থেকেই দমকল বাহিনী ও স্থানীয়রা চেষ্টা করছেন লাশ উদ্ধারের জন্য।
পরে সেনাবাহিনীও যোগ দিয়েছে এ উদ্ধার কাজে।কিন্তু গভীরভাবে মাটিচাপা পড়ায় লাশ উদ্ধার করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দমকল বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে স্ত্রী-সন্তানের লাশের আশায় আবদুল আজিজ সকাল থেকে সেখানেই বসে কাঁদছেন।বিলাপ করে বলছেন ‘আল্লাহ্ আমারেও কেন তাদের সাথে নিল না,আমি এই কষ্ট আর সহ্য করতে পারছিনা।’ সেখানে আমতলি ঘোনা এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের সাথে কথা হয়।তিনি জানান,জনবসতি কম হওয়ায় এখানে অনেক ভূমিহীন পরিবার পাহাড়ের ঢালু জমিতে পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি তৈরী করে দিনযাপন করছে।আবদুল আজিজ বছর খানেক আগে থেকে আমতলি ঘোনায় জমি চাষাবাদ করে,দিনমজুর খেটে সংসার চালাচ্ছিলেন।মঙ্গলবার ভোর ৩টার দিকে প্রবল বর্ষণের সময় হঠাৎ আজিজের ঘরটি ধসে পাহাড়ের নিচে নেমে যায়।এ সময় ঘরসহ মাটির নিচে চাপা পড়ে আজিজের স্ত্রী-সন্তান।
আজিজ কোনোমতো ঘর থেকে বের হয়ে পাশ্ববর্তী লোকদের জানালে স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযানে নামে।সকালে দমকল বাহিনীর সদস্যরা ও পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।কিন্তু বিরূপ আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারনে উদ্ধার অভিযান চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে।এখনো মা-মেয়ের সন্ধান মেলেনি।বিভিন্ন যন্ত্র দিয়ে মাটি সরিয়ে লাশ উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।অন্যদিকে লেমু ঝিরি আগা পাড়ার লাল মহন বড়ুয়ার পরিবারেও একই অবস্থা।তিনটি সন্তান হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন মহন।
তার স্ত্রী ও আদরের সন্তানদের জন্য বিলাপ করে মুর্ছা যাচ্ছেন বার বার।মিতু বড়ুয়া,শুভ বড়ুয়া ও লতা বড়ুয়া এদের বয়স ৫ এর মধ্যে।রাতে তিন সন্তান-স্ত্রী সাথে নিয়ে একই খাটে ঘুমাচ্ছিলেন মহন।কিন্তু হঠাৎ পাহাড় ধসে পড়লে স্ত্রীকে খুঁজে পেলেও তিন সন্তান মাটির নিচে চাপা পড়ে।পরে যখন উদ্ধার করা হয় ততক্ষণে সব কিছু শেষ।উল্লেখ্য,মঙ্গলবার ভোর রাতে বান্দরবানের কালাঘাটা ও লেমু ঝিরি এলাকার পৃথক তিনটি স্থানে পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে ৪ শিশুসহ ৬ জন প্রাণ হারিয়েছে।